WBBSE Class 8 History Chapter 5 ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া Question and Answers

Chapter 5: ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া : সহযোগিতা ও বিদ্রোহ (Cooperation & Revolt)

১. সতীদাহ প্রথা বন্ধ করার জন্য কে বিশেষ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন?

ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর খ) রাজা রামমোহন রায় গ) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ঘ) কেশবচন্দ্র সেন

সঠিক উত্তর: খ) রাজা রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় ছিলেন ভারতের অন্যতম প্রধান সমাজসংস্কারক। তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলে ১৮২৯ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন জারি করেন।

২. হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন কত সালে পাস হয়?

ক) ১৮২৯ সালে খ) ১৮৫৬ সালে গ) ১৮৭২ সালে ঘ) ১৮৯১ সালে

সঠিক উত্তর: খ) ১৮৫৬ সালে

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবাদের পুনরায় বিয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের যুক্তি তুলে ধরে বিধবা বিবাহের পক্ষে প্রচার করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়।

৩. ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন কে?

ক) স্বামী বিবেকানন্দ খ) রাজা রামমোহন রায় গ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘ) কেশবচন্দ্র সেন

সঠিক উত্তর: খ) রাজা রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা: ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একেশ্বরবাদের প্রচার, মূর্তিপূজার বিরোধিতা এবং সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার দূর করা। নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও ব্রাহ্ম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

ক) রাজা রামমোহন রায় খ) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী গ) স্বামী বিবেকানন্দ ঘ) কেশবচন্দ্র সেন

সঠিক উত্তর: খ) স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

ব্যাখ্যা: স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ১৮৭৫ সালে আর্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বেদকে ধর্মীয় জ্ঞানের প্রধান উৎস বলে মনে করতেন। তিনি মূর্তিপূজা, বাল্যবিবাহ ও বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরোধিতা করেন। পাশাপাশি নারীশিক্ষা ও বিধবা বিবাহের সমর্থন করেন।

৫. এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

ক) ওয়ারেন হেস্টিংস খ) উইলিয়াম জোনস গ) জেমস মিল ঘ) লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক

সঠিক উত্তর: খ) উইলিয়াম জোনস

ব্যাখ্যা: ১৭৮৪ সালে কলকাতায় স্যার উইলিয়াম জোনস এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাচীন ভারতের ইতিহাস, সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ভারতীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জাতিভেদের বিরুদ্ধে কোন গোষ্ঠী প্রতিবাদ করেছিল?

ক) নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী খ) রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ গ) মুসলিম লীগ ঘ) ব্রিটিশ প্রশাসন

সঠিক উত্তর: ক) নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী

ব্যাখ্যা: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর ছাত্রদের নিয়ে নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, জাতিভেদ, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা করেন। তাঁরা যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারে আগ্রহী ছিলেন।

৭. সাঁওতাল বিদ্রোহ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?

ক) ১৮৫৫-৫৬ সালে খ) ১৮৫৯-৬০ সালে গ) ১৮৭৫ সালে ঘ) ১৮৯৯-১৯০০ সালে

সঠিক উত্তর: ক) ১৮৫৫-৫৬ সালে

ব্যাখ্যা: ১৮৫৫-৫৬ সালে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ শাসকদের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালরা এই আন্দোলনে অংশ নেন। এই বিদ্রোহের পর সাঁওতালদের জন্য সাঁওতাল পরগনা নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক এলাকা গঠন করা হয়।

৮. মুন্ডা বিদ্রোহ বা উলগুলানের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

ক) সিধু খ) কানহু গ) বিরসা মুন্ডা ঘ) তিতুমির

সঠিক উত্তর: গ) বিরসা মুন্ডা

ব্যাখ্যা: বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ১৮৯৯-১৯০০ সালে মুন্ডা বিদ্রোহ বা উলগুলান সংঘটিত হয়। জমির অধিকার রক্ষা এবং বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে মুন্ডারা এই আন্দোলনে অংশ নেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধেও এই বিদ্রোহ পরিচালিত হয়েছিল।

৯. বারাসাত বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?

ক) সিধু ও কানহু খ) মির নিসার আলি (তিতুমির) গ) বিরসা মুন্ডা ঘ) মঙ্গল পাণ্ডে

সঠিক উত্তর: খ) মির নিসার আলি (তিতুমির)

ব্যাখ্যা: মির নিসার আলি, যিনি তিতুমির নামে পরিচিত, ১৮৩১ সালে বারাসাত অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসন ও জমিদারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিনি নারকেলবেড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করেছিলেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর আক্রমণে সেই কেল্লা ধ্বংস হয় এবং তিতুমির নিহত হন।

১০. দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক) ১৮৫৭ সালে খ) ১৮৬০ সালে গ) ১৮৭৫ সালে ঘ) ১৯০৫ সালে

সঠিক উত্তর: খ) ১৮৬০ সালে

ব্যাখ্যা: দীনবন্ধু মিত্রের লেখা ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়। এই নাটকে বাংলার নীলচাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অত্যাচারের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। নাটকটি নীলচাষিদের দুর্দশার বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১১. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রথম স্ফুলিঙ্গ কোথায় দেখা যায়?

ক) কলকাতা খ) ব্যারাকপুর গ) মিরাট ঘ) দিল্লি

সঠিক উত্তর: খ) ব্যারাকপুর

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের মার্চ মাসে ব্যারাকপুর সেনাছাউনিতে মঙ্গল পাণ্ডে ব্রিটিশ সেনা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তাঁর এই ঘটনা ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রথম স্ফুলিঙ্গ হিসেবে পরিচিত। তবে বৃহত্তর সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ১০ মে মিরাটে।

১২. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ কী ছিল?

ক) সিপাহিদের বেতন কমানোর গুজব খ) এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব গ) মোগল সম্রাটকে হত্যার গুজব ঘ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বন্ধ হওয়ার গুজব

সঠিক উত্তর: খ) এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে এনফিল্ড রাইফেলের টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই টোটা ব্যবহারের আগে দাঁত দিয়ে কাটতে হতো। ফলে হিন্দু ও মুসলিম সিপাহিদের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

১৩. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় বিদ্রোহীরা বাহাদুর শাহ জাফরকে কী ঘোষণা করেছিলেন?

ক) ইংল্যান্ডের সম্রাট খ) হিন্দুস্তানের সম্রাট গ) বাংলার নবাব ঘ) ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল

সঠিক উত্তর: খ) হিন্দুস্তানের সম্রাট

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় মিরাটের বিদ্রোহী সিপাহিরা দিল্লিতে পৌঁছে মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে নিজেদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁকে হিন্দুস্তানের সম্রাট ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ শাসনের পরিবর্তে মোগল শাসনের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেন।

১৪. সাঁওতালদের জমি দখলকারী বহিরাগত শোষকদের কী বলা হতো?

ক) বর্গি খ) দিকু গ) বণিক ঘ) ইজারাদার

সঠিক উত্তর: খ) দিকু

ব্যাখ্যা: সাঁওতালরা বহিরাগত জমিদার, মহাজন ও অন্যান্য শোষকদের দিকু বলে ডাকত। এরা অনেক সময় সাঁওতালদের জমি দখল করত এবং ঋণের নামে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ আদায় করত। এই শোষণের প্রতিবাদেই সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।

১৫. ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

ক) তিতুমির খ) হাজি শরিয়তউল্লাহ গ) সৈয়দ আহমদ বেরলভি ঘ) মির নিসার আলি

সঠিক উত্তর: খ) হাজি শরিয়তউল্লাহ

ব্যাখ্যা: হাজি শরিয়তউল্লাহ বাংলার ফরিদপুর অঞ্চলে ফরাজি আন্দোলনের সূচনা করেন। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের সংস্কার। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনটি কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং জমিদার ও নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ গড়ে ওঠে।

১৬. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ভারতে কোন শাসনব্যবস্থা চালু হয়?

ক) দ্বৈত শাসন খ) ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ শাসন গ) মোগল শাসন পুনরায় চালু হয় ঘ) ভারতীয়দের হাতে শাসনভার তুলে দেওয়া হয়

সঠিক উত্তর: খ) ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ শাসন

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়। এরপর ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের হাতে চলে যায়। রানি ভিক্টোরিয়ার নামে ভারতে শাসন পরিচালিত হতে থাকে এবং গভর্নর জেনারেল একই সঙ্গে ভাইসরয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

১৭. নীল বিদ্রোহের দুইজন উল্লেখযোগ্য নেতা কারা ছিলেন?

ক) সিধু ও কানহু খ) তিতুমির ও দুদু মিয়া গ) বিশ্বচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস ঘ) নানা সাহেব ও তাতিয়া টোপি

সঠিক উত্তর: গ) বিশ্বচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস

ব্যাখ্যা: ১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহে বিশ্বচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নীলকর সাহেবদের অত্যাচার এবং জোর করে নীল চাষ করানোর বিরুদ্ধে বাংলার কৃষকরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করেন। এই আন্দোলনে কৃষকদের সম্মিলিত প্রতিরোধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১৮. প্রার্থনা সমাজ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

ক) কলকাতা খ) মাদ্রাজ গ) বোম্বাই ঘ) পুনা

সঠিক উত্তর: গ) বোম্বাই

ব্যাখ্যা: ১৮৬৭ সালে বোম্বাইয়ে আত্মারাম পাণ্ডুরঙ্গ প্রার্থনা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে মহাদেব গোবিন্দ রানাডে এই সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন। সমাজের কুসংস্কার দূর করা, নারীশিক্ষার প্রসার এবং বিধবা বিবাহের সমর্থন ছিল এই সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কাজ।

১৯. পণ্ডিতা রমাবাই কোন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন?

ক) সতীদাহ প্রথা বন্ধ খ) নারীশিক্ষা ও বিধবাদের আত্মনির্ভরতা গ) ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন ঘ) কৃষক বিদ্রোহ

সঠিক উত্তর: খ) নারীশিক্ষা ও বিধবাদের আত্মনির্ভরতা

ব্যাখ্যা: পণ্ডিতা রমাবাই ছিলেন একজন বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক। তিনি নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিধবা নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য কাজ করেন। ১৮৮৯ সালে পুনায় তিনি শারদা সদন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কাজের মাধ্যমে সমাজে নারীদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

২০. সৈয়দ আহমদ খান কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

ক) হিন্দু কলেজ খ) মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ গ) সংস্কৃত কলেজ ঘ) কলকাতা মাদ্রাসা

সঠিক উত্তর: খ) মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ

ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৮৭৫ সালে আলিগড়ে মুহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এই কলেজে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই প্রতিষ্ঠানই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।

২১. ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা কোথায় হয়েছিল?

ক) ভারত খ) আরব গ) তুরস্ক ঘ) ইরান

সঠিক উত্তর: খ) আরব

ব্যাখ্যা: ওয়াহাবি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল আরবে। মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহাব এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন। ভারতে সৈয়দ আহমদ বেরলভি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলায় তিতুমিরের আন্দোলনেও ওয়াহাবি মতবাদের প্রভাব দেখা যায়।

২২. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে রানি লক্ষ্মীবাই কোন অঞ্চলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন?

ক) দিল্লি খ) ঝাঁসি গ) লক্ষ্ণৌ ঘ) কানপুর

সঠিক উত্তর: খ) ঝাঁসি

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ব্রিটিশদের স্বত্ববিলোপ নীতির কারণে তাঁর দত্তক পুত্রের উত্তরাধিকার স্বীকৃত হয়নি। এর ফলে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৮৫৮ সালে যুদ্ধের সময় তিনি নিহত হন।

২৩. জ্যোতিরাও ফুলে মূলত কাদের উন্নতির জন্য কাজ করেছিলেন?

ক) জমিদার শ্রেণি খ) নিম্নবর্ণের মানুষ ও নারী গ) ব্রিটিশ আধিকারিক ঘ) উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ

সঠিক উত্তর: খ) নিম্নবর্ণের মানুষ ও নারী

ব্যাখ্যা: জ্যোতিরাও ফুলে ছিলেন মহারাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক। তিনি জাতিভেদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীবাই ফুলেও নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৮৭৩ সালে জ্যোতিরাও ফুলে সত্যশোধক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।

২৪. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান কত সালে ঘটে?

ক) ১৮৫৭ সালে খ) ১৮৫৮ সালে গ) ১৮৭৭ সালে ঘ) ১৯৪৭ সালে

সঠিক উত্তর: খ) ১৮৫৮ সালে

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইন অনুযায়ী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ভারত সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অধীনে চলে যায়।

২৫. রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক) ১৮৫৭ সালে খ) ১৮৫৮ সালে গ) ১৮৭৭ সালে ঘ) ১৯১১ সালে

সঠিক উত্তর: খ) ১৮৫৮ সালে

ব্যাখ্যা: ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর রানি ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। এই ঘোষণার মাধ্যমে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের হাতে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এতে ভারতীয়দের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং দেশীয় রাজাদের সঙ্গে করা চুক্তি রক্ষা করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

২৬. সাঁওতাল বিদ্রোহের পর সাঁওতালদের জন্য কোন প্রশাসনিক অঞ্চল গঠন করা হয়?

ক) সাঁওতাল রাজ্য খ) সাঁওতাল পরগনা গ) সাঁওতাল কাউন্সিল ঘ) সাঁওতাল সেনাবাহিনী

সঠিক উত্তর: খ) সাঁওতাল পরগনা

ব্যাখ্যা: ১৮৫৫-৫৬ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার সাঁওতালদের জন্য সাঁওতাল পরগনা নামে একটি পৃথক প্রশাসনিক অঞ্চল গঠন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকার প্রশাসন পরিচালনা করা এবং তাদের জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা।

২৭. নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী কার নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল?

ক) রাজা রামমোহন রায় খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

সঠিক উত্তর: খ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

ব্যাখ্যা: হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কলকাতার হিন্দু কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্রদের নিয়ে নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা অন্ধবিশ্বাস, জাতিভেদ ও বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন। তাঁরা স্বাধীন চিন্তা ও যুক্তিবাদকে গুরুত্ব দিতেন।

২৮. বাংলা শিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উল্লেখযোগ্য অবদান কী ছিল?

ক) ইংরেজি শিক্ষার বিরোধিতা করা খ) বাংলা পাঠ্যবই রচনা ও মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা গ) সংস্কৃত শিক্ষার বিরোধিতা করা ঘ) ফরাসি ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর: খ) বাংলা পাঠ্যবই রচনা ও মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা

ব্যাখ্যা: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা ভাষা ও শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি শিশুদের জন্য ‘বর্ণপরিচয়’, ‘সহজপাঠ’ ও ‘কথামালা’-র মতো বই রচনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁর লেখা বইগুলি বাংলা শিক্ষাকে সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে।

২৯. ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে কি শুধুমাত্র সিপাহি বিদ্রোহ বলা যায়?

ক) হ্যাঁ, শুধুমাত্র সিপাহিরাই এতে অংশ নিয়েছিল খ) না, বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক, সাধারণ মানুষ ও অভিজাতরাও যোগ দিয়েছিলেন গ) শুধু ইউরোপীয়রা এই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল ঘ) এটি একটি কাল্পনিক ঘটনা ছিল

সঠিক উত্তর: খ) না, বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক, সাধারণ মানুষ ও অভিজাতরাও যোগ দিয়েছিলেন

ব্যাখ্যা: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সূচনা সিপাহিদের মাধ্যমে হলেও, এটি বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক কৃষক, জমিদার, দেশীয় শাসক ও অভিজাত শ্রেণির মানুষ এই বিদ্রোহে অংশ নেন। নানা সাহেব, রানি লক্ষ্মীবাই, কুঁয়ার সিং এবং বাহাদুর শাহ জাফরের মতো নেতারা এই বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৩০. ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকায় আসামের চা-বাগানের শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে কে লিখেছিলেন?

ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় খ) দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘ) অক্ষয়কুমার দত্ত

সঠিক উত্তর: খ) দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়

ব্যাখ্যা: দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় আসামের চা-বাগানের শ্রমিকদের দুর্দশা এবং তাঁদের ওপর ইউরোপীয় মালিকদের অত্যাচারের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখে ‘সঞ্জীবনী’ পত্রিকায় শ্রমিকদের সমস্যার কথা প্রকাশ করেন। রামকুমার বিদ্যারত্নও ‘কুলী-কাহিনী’ লেখার মাধ্যমে চা-বাগানের শ্রমিকদের দুরবস্থা তুলে ধরেছিলেন।

Leave a Comment