WBBSE Class 8 Poribesh O Biggan Chapter 6 প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান – জীবনবিজ্ঞান: কোশ ও কোশীয় অঙ্গাণু (গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেবাসে ‘কোশ’ (Cell) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে এবং গুগলে সহজে উত্তর খোঁজার জন্য এই অধ্যায়ের বাছাই করা ৩০টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ও তাদের সহজ বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।
১. জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত একক ‘কোশ’ (Cell) প্রথম কে আবিষ্কার করেন?
ক) অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
খ) রবার্ট হুক (Robert Hooke)
গ) চার্লস ডারউইন
ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর: খ) রবার্ট হুক (Robert Hooke)
২. অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে প্রথম ‘সজীব কোশ’ কে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন?
ক) রবার্ট হুক
খ) অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক (Antonie van Leeuwenhoek)
গ) রবার্ট ব্রাউন
ঘ) থিওডোর সোয়ান
সঠিক উত্তর: খ) অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক
৩. একটি ‘সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র’ (Simple Microscope) বস্তুকে কত গুণ বড়ো করে দেখাতে পারে?
ক) ১৫-২০ গুণ
খ) ১০০ গুণ
গ) ২০০০ গুণ
ঘ) ১ লক্ষ গুণ
সঠিক উত্তর: ক) ১৫-২০ গুণ
৪. ‘যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র’ (Compound Microscope)-এর বিবর্ধন ক্ষমতা সর্বাধিক কত হতে পারে?
ক) ৫০-১০০ গুণ
খ) ২০০০-৪০০০ গুণ
গ) ৫০,০০০ গুণ
ঘ) ৩ লক্ষ গুণ
সঠিক উত্তর: খ) ২০০০-৪০০০ গুণ
৫. আধুনিক ‘ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র’ (Electron Microscope) একটি বস্তুকে কত গুণ বড়ো করে দেখাতে পারে?
ক) ২০০০-৪০০০ গুণ
খ) ৫০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ গুণ
গ) ৫০০-১০০০ গুণ
ঘ) ১০-২০ গুণ
সঠিক উত্তর: খ) ৫০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ গুণ (তিন লক্ষ গুণ)
৬. মানুষের লোহিত রক্তকণিকার (RBC) আকৃতি কেমন হয়?
ক) গোলাকার, দু-পাশ চ্যাপটা (চাকতির মতো)
খ) তারার মতো
গ) লম্বা নলাকার
ঘ) নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই
সঠিক উত্তর: ক) গোলাকার, দু-পাশ চ্যাপটা (চাকতির মতো)
৭. প্রাণীদেহের পেশিকোশের (Muscle Cell) আকৃতি কীরূপ হয়?
ক) গোলাকার
খ) দু-প্রান্ত সূচালো এবং মাঝখানটা চওড়া (তন্তুময়)
গ) চ্যাপটা ও পাতলা
ঘ) তারার মতো
সঠিক উত্তর: খ) দু-প্রান্ত সূচালো এবং মাঝখানটা চওড়া (তন্তুময়)
৮. স্নায়ুকোশের (Nerve Cell / Neuron) মূল কোশদেহের আকৃতি কেমন?
ক) তারার মতো বা গোলাকার, শাখা-প্রশাখাযুক্ত
খ) চাকতির মতো
গ) সূচালো
ঘ) বর্গাকার
সঠিক উত্তর: ক) তারার মতো বা গোলাকার, শাখা-প্রশাখাযুক্ত
৯. মুরগির ডিমের কুসুম (Yolk) আসলে কী ধরনের গঠন?
ক) একটি পূর্ণাঙ্গ একক কোশ (Single Cell)
খ) বহুকোশী কলা
গ) একটি অঙ্গ
ঘ) একটি তন্ত্র
সঠিক উত্তর: ক) একটি পূর্ণাঙ্গ একক কোশ (Single Cell)
১০. বিজ্ঞানে কোশের আকার সাধারণত কোন এককে মাপা হয়?
ক) সেন্টিমিটার (cm)
খ) মিলিমিটার (mm)
গ) মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µm)
ঘ) কিলোমিটার (km)
সঠিক উত্তর: গ) মাইক্রোমিটার বা মাইক্রন (µm)
১১. ১ মাইক্রন (µm) সমান কত ন্যানোমিটার (nm)?
ক) ১০ nm
খ) ১০০ nm
গ) ১০০০ nm
ঘ) ১০,০০০ nm
সঠিক উত্তর: গ) ১০০০ nm
১২. ‘কোশ প্রাচীর’ (Cell Wall) কোন ধরনের কোশে দেখতে পাওয়া যায়?
ক) শুধুমাত্র প্রাণীকোশে
খ) শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশে
গ) প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয় কোশে
ঘ) কোনোটিতেই নয়
সঠিক উত্তর: খ) শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশে
১৩. প্লাস্টিড (Plastid) অঙ্গাণুটি কোন কোশে থাকে?
ক) প্রাণীকোশে
খ) শুধু উদ্ভিদকোশে
গ) উভয় কোশে
ঘ) ব্যাকটেরিয়ায়
সঠিক উত্তর: খ) শুধু উদ্ভিদকোশে
১৪. প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় কোন অঙ্গাণুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
ক) লাইসোজোম
খ) সেন্ট্রোজোম (Centrosome)
গ) রাইবোজোম
ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর: খ) সেন্ট্রোজোম (Centrosome)
১৫. কোশের কোন অঙ্গাণুকে ‘আত্মঘাতী থলি’ (Suicidal Bag) বলা হয়?
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) লাইসোজোম (Lysosome)
গ) রাইবোজোম
ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর: খ) লাইসোজোম (Lysosome)
১৬. মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)-কে কোশের কী বলা হয়?
ক) প্রোটিন কারখানা
খ) কোশের শক্তিঘর (Powerhouse)
গ) প্যাকেজিং সেন্টার
ঘ) বংশগতির ভাণ্ডার
সঠিক উত্তর: খ) কোশের শক্তিঘর (Powerhouse)
১৭. কোশের ‘প্রোটিন কারখানা’ (Protein Factory) কাকে বলা হয়?
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) রাইবোজোম (Ribosome)
গ) লাইসোজোম
ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর: খ) রাইবোজোম (Ribosome)
১৮. গলজি বস্তু (Golgi Body)-র প্রধান কাজ কী?
ক) প্রোটিন সংশ্লেষ করা
খ) শক্তি উৎপাদন করা
গ) কোশীয় প্যাকেজিং ও ক্ষরণ (Secretion)
ঘ) সালোকসংশ্লেষ করা
সঠিক উত্তর: গ) কোশীয় প্যাকেজিং ও ক্ষরণ (Secretion)
১৯. প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য কোনটি?
ক) নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি
খ) কোশ প্রাচীর ও প্লাস্টিড (উদ্ভিদে আছে, প্রাণীতে নেই)
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ঘ) রাইবোজোম
সঠিক উত্তর: খ) কোশ প্রাচীর ও প্লাস্টিড (উদ্ভিদে আছে, প্রাণীতে নেই)
২০. কোশের নিউক্লিয়াস (Nucleus)-এর প্রধান কাজ কী?
ক) শক্তি উৎপাদন করা
খ) বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করা এবং কোশের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করা
গ) প্রোটিন তৈরি করা
ঘ) বর্জ্য নিষ্কাশন করা
সঠিক উত্তর: খ) বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করা এবং কোশের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করা
২১. রবার্ট হুক গাছের ছালে যে কোশ দেখেছিলেন, তা মৃত ছিল কেন?
ক) গাছটি মৃত ছিল বলে
খ) তিনি গাছের কর্ক বা মৃত ছাল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন
গ) অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি খারাপ ছিল
ঘ) কোশ এমনিতেই মৃত হয়
সঠিক উত্তর: খ) তিনি গাছের কর্ক বা মৃত ছাল পর্যবেক্ষণ করেছিলেন
২২. রোগজীবাণু ধ্বংস করার সময় শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) ভেতরে কোন অঙ্গাণুর সংখ্যা বেড়ে যায়?
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) লাইসোজোম
গ) রাইবোজোম
ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর: খ) লাইসোজোম
২৩. আমাদের হাত ও পায়ের পেশিকোশে কোন অঙ্গাণু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে এবং কেন?
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া — শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য
খ) লাইসোজোম — জীবাণু ধ্বংস করতে
গ) ক্লোরোপ্লাস্ট — খাদ্য তৈরি করতে
ঘ) সেন্ট্রোজোম — কোশ বিভাজনে
সঠিক উত্তর: ক) মাইটোকন্ড্রিয়া — শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য
২৪. মরুভূমির ক্যাকটাস উদ্ভিদ জল সঞ্চয় করে রাখে কোথায়?
ক) পাতায়
খ) কাণ্ডের কোশে থাকা বড়ো গহ্বরে (Vacuole)
গ) মূলে
ঘ) ফুলে
সঠিক উত্তর: খ) কাণ্ডের কোশে থাকা বড়ো গহ্বরে (Vacuole)
২৫. উদ্ভিদকোশের গহ্বরে (Vacuole) থাকা কোশরসে (Cell Sap) কী কী উপাদান থাকে?
ক) শুধুমাত্র জল
খ) জল, খনিজ লবণ, শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও রঞ্জক পদার্থ
গ) শুধুমাত্র প্রোটিন
ঘ) শুধু গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর: খ) জল, খনিজ লবণ, শর্করা, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও রঞ্জক পদার্থ
২৬. কোশপর্দা বা প্লাজমা মেমব্রেন (Plasma Membrane)-এর প্রধান কাজ কী?
ক) কোশকে পাথরের মতো শক্ত করা
খ) কোশের ভেতরে ও বাইরে পদার্থের নির্বাচিত যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা
গ) প্রোটিন তৈরি করা
ঘ) শক্তি উৎপাদন করা
সঠিক উত্তর: খ) কোশের ভেতরে ও বাইরে পদার্থের নির্বাচিত যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা
২৭. গরম জলে বিট বা ডাল ফোটালে রান্নার জলের রং লালচে হয়ে যায় কেন?
ক) জলের অতিরিক্ত চাপের কারণে
খ) তাপে কোশপর্দা ও গহ্বরের পর্দা নষ্ট হয়ে যায় এবং ভেতরের কোশরস বেরিয়ে আসে
গ) লবণের রাসায়নিক প্রভাবে
ঘ) আলোর প্রভাবে
সঠিক উত্তর: খ) তাপে কোশপর্দা ও গহ্বরের পর্দা নষ্ট হয়ে যায় এবং ভেতরের কোশরস বেরিয়ে আসে
২৮. বিভিন্ন পরিবেশে জীবের খাপ খাইয়ে নেওয়ার (অভিযোজন) ক্ষেত্রে কোশের ভূমিকা কী?
ক) কোশের কোনো ভূমিকা নেই
খ) কোশীয় স্তরে গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়
গ) শুধু প্রাণীর স্বভাবের পরিবর্তন হয়
ঘ) কোশ সবসময় একই থাকে
সঠিক উত্তর: খ) কোশীয় স্তরে গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই জীব পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়
২৯. কোশের কোন অঙ্গাণুটিকে ‘ডিসপ্যাচ সেন্টার’ বা প্যাকেজিং সেন্টার বলা হয়?
ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
খ) গলজি বস্তু (Golgi Apparatus)
গ) লাইসোজোম
ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
সঠিক উত্তর: খ) গলজি বস্তু (Golgi Apparatus)
৩০. অ্যামিবার ক্ষণপদ (Pseudopodia)-এর মূল কাজ কী?
ক) শুধুমাত্র খাদ্য ধরা
খ) চলাচল করা এবং খাদ্য গ্রহণ করা
গ) শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া
ঘ) প্রজনন করা
সঠিক উত্তর: খ) চলাচল করা এবং খাদ্য গ্রহণ করা
অষ্টম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান – জীবনবিজ্ঞান: কোশ ও কোশীয় অঙ্গাণু (SAQ ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর)
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেবাসে ‘কোশ’ (Cell) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে এবং পরীক্ষায় পুরো নম্বর পাওয়ার জন্য এই অধ্যায়ের বাছাই করা সংক্ষিপ্ত ও বড়ো প্রশ্নোত্তরগুলো সহজ ভাষায় নিচে আলোচনা করা হলো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) – মান ২/৩
১. অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope) কয় প্রকার ও কী কী? কোন যন্ত্রে কত গুণ বড়ো দেখা যায়?
| অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নাম | বিবর্ধন ক্ষমতা | বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার |
|---|---|---|
| সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র | ১৫-২০ গুণ | একটিমাত্র লেন্স থাকে। ফুলের অংশ বা ছোট পোকা দেখতে ব্যবহৃত হয়। |
| যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র | ২০০০-৪০০০ গুণ | একাধিক লেন্স ও আয়না থাকে। ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল বা কোশ দেখতে ব্যবহৃত হয়। |
| ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র | ৫০,০০০-৩,০০,০০০ গুণ | আলোর বদলে ইলেকট্রন রশ্মি ব্যবহার হয়। ভাইরাস ও কোশের ভেতরের সূক্ষ্ম অঙ্গাণু দেখতে লাগে। |
২. কোশ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে রবার্ট হুক ও লিউয়েনহুক-এর অবদান ও পার্থক্য কী?
রবার্ট হুক (১৬৬৫): তিনি গাছের কর্ক (মৃত ছাল) পরীক্ষা করে প্রথম কোশ আবিষ্কার করেন এবং এর নাম দেন ‘Cell’ বা প্রকোষ্ঠ। তিনি মূলত মৃত কোশ বা কোশপ্রাচীর দেখেছিলেন।
লিউয়েনহুক (১৬৭৪): এই ওলন্দাজ বিজ্ঞানী উন্নত অণুবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করে পুকুরের জল, ব্যাকটেরিয়া ও রক্তকণিকা পর্যবেক্ষণ করেন। অর্থাৎ, তিনিই প্রথম সজীব কোশ আবিষ্কার করেন।
পার্থক্য: রবার্ট হুক মৃত কোশ আবিষ্কার করেন এবং কোশের নামকরণ করেন। অন্যদিকে, লিউয়েনহুক প্রথম সজীব কোশ পর্যবেক্ষণ করেন।
৩. প্রাণীকোশ ও উদ্ভিদকোশের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?
| বৈশিষ্ট্য | উদ্ভিদকোশ | প্রাণীকোশ |
|---|---|---|
| কোশ প্রাচীর | সেলুলোজ নির্মিত শক্ত প্রাচীর থাকে। | কোনো কোশ প্রাচীর থাকে না। |
| প্লাস্টিড | খাদ্য তৈরি ও রঙের জন্য প্লাস্টিড উপস্থিত। | প্লাস্টিড থাকে না। |
| সেন্ট্রোজোম | সাধারণত থাকে না। | কোশ বিভাজনের জন্য সেন্ট্রোজোম উপস্থিত। |
| গহ্বর (Vacuole) | আকারে বড়ো এবং স্থায়ী হয়। | আকারে ছোট এবং অস্থায়ী হয়। |
৪. কোশের বিভিন্ন অঙ্গাণু এবং তাদের প্রধান কাজ সংক্ষেপে লেখো।
- নিউক্লিয়াস: কোশের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: শক্তি (ATP) উৎপন্ন করে, তাই একে ‘কোশের শক্তিঘর’ বলে।
- রাইবোজোম: প্রোটিন তৈরি করে, একে ‘প্রোটিন কারখানা’ বলে।
- গলজি বস্তু: কোশের প্যাকেজিং ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লাইসোজোম: জীবাণু ধ্বংস করে, একে ‘আত্মঘাতী থলি’ বলে।
- প্লাস্টিড: উদ্ভিদকোশে খাদ্য তৈরি (ক্লোরোপ্লাস্ট) ও রং সৃষ্টি করে।
৫. নিউক্লিয়াসের গঠন ও কাজ বর্ণনা করো।
গঠন: নিউক্লিয়াস দ্বি-স্তরী পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে, যাতে নিউক্লীয় রন্ধ্র থাকে। এর ভেতরে তরল নিউক্লিওপ্লাজম, সুতোর মতো ক্রোমাটিন জালিকা (DNA ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি) এবং একটি ঘন গোলাকার নিউক্লিওলাস থাকে।
কাজ:
১. এটি কোশের মস্তিষ্ক হিসেবে কোশের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
২. এর ভেতরের DNA বাবা-মায়ের বংশগত বৈশিষ্ট্য সন্তানসন্ততির মধ্যে বহন করে।
৩. কোশ বিভাজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
৬. মাইটোকন্ড্রিয়াকে ‘কোশের শক্তিঘর’ (Powerhouse) বলা হয় কেন? এর কাজ কী?
গঠন ও কাজ: মাইটোকন্ড্রিয়া হলো দ্বি-পর্দাবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। এর ভেতরের পর্দাটি ভাঁজ হয়ে আঙুলের মতো ‘ক্রিস্টি’ গঠন করে। এর ভেতরে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম থাকে।
শক্তিঘর বলার কারণ: কোশীয় শ্বসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ ভেঙে কোশের প্রয়োজনীয় সমস্ত শক্তি (ATP বা অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) এই মাইটোকন্ড্রিয়াতেই উৎপন্ন হয়। তাই একে কোশের শক্তিঘর বা Powerhouse বলা হয়।
৭. কোশের আকার ও আকৃতির বৈচিত্র্য উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
জীবদেহে কাজের ওপর ভিত্তি করে কোশের আকার আলাদা হয়:
১. লোহিত রক্তকণিকা (RBC): গোলাকার ও দু-পাশ চ্যাপটা চাকতির মতো। এটি দ্রুত অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।
২. পেশিকোশ: লম্বা মাকু বা তন্তুর মতো। এটি সংকোচন ও প্রসারণে সাহায্য করে।
৩. স্নায়ুকোশ (Neuron): তারার মতো মূলদেহ এবং লম্বা শাখা-প্রশাখাযুক্ত। এটি দ্রুত বার্তা পরিবহনে সাহায্য করে। এটি মানবদেহের দীর্ঘতম কোশ।
নোট: উটপাখির ডিম হলো পৃথিবীর বৃহত্তম একক কোশ এবং মাইকোপ্লাজমা হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কোশ।
৮. প্লাস্টিড (Plastid) কাকে বলে? এটি কয় প্রকার ও কী কী?
প্লাস্টিড: এটি শুধুমাত্র উদ্ভিদকোশে থাকা দ্বি-পর্দাবৃত একটি অঙ্গাণু, যার নিজস্ব DNA আছে। এটি উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি ও রং নির্ধারণ করে।
প্রকারভেদ ও কাজ:
১. ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের হয়। এর মূল কাজ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করা।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট: হলুদ, লাল বা কমলা রঙের হয়। এটি ফুল ও ফলের রং তৈরি করে পরাগযোগ ও বীজ বিস্তারে সাহায্য করে।
৩. লিউকোপ্লাস্ট: বর্ণহীন প্লাস্টিড। এটি উদ্ভিদের মূল বা কাণ্ডে খাদ্য (শ্বেতসার, তেল) সঞ্চয় করে রাখে।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (Broad Questions) – মান ৫
১. কোশ আবিষ্কারের ইতিহাস এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ক্রমবিকাশ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
কোশ আবিষ্কারের ইতিহাস:
১৬৬৫ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক গাছের মৃত ছাল থেকে প্রথম কোশ আবিষ্কার করেন। পরে ১৬৭৪ সালে লিউয়েনহুক প্রথম সজীব কোশ পর্যবেক্ষণ করেন। ১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন এবং ১৮৩৯ সালে শ্লাইডেন ও সোয়ান ‘কোশ তত্ত্ব’ (Cell Theory) উপস্থাপন করেন।
অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ক্রমবিকাশ:
প্রথমদিকে আবিষ্কৃত সরল আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একটিমাত্র লেন্স ছিল, যা বস্তুকে মাত্র ১৫-২০ গুণ বড়ো করতে পারত। এরপর আসে যৌগিক আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র, যা আলো ও একাধিক লেন্সের সাহায্যে বস্তুকে ২০০০-৪০০০ গুণ বড়ো করে (ব্যাকটেরিয়া দেখার জন্য)। আধুনিক বিজ্ঞানের বিস্ময় হলো ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র। এতে আলোর বদলে ইলেকট্রন রশ্মি ব্যবহৃত হয়, যা ভাইরাস বা DNA-কে তিন লক্ষ গুণ পর্যন্ত বড়ো করে দেখাতে পারে।
২. উদ্ভিদকোশ ও প্রাণীকোশের গঠনগত পার্থক্যগুলি বিস্তারিত লেখো।
উভয় কোশেই প্লাজমা মেমব্রেন, নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও রাইবোজোম থাকলেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে:
| বিষয় | উদ্ভিদকোশ | প্রাণীকোশ |
|---|---|---|
| কোশ প্রাচীর | সেলুলোজ দিয়ে তৈরি শক্ত কোশ প্রাচীর থাকে। | কোশ প্রাচীর থাকে না। |
| প্লাস্টিড | খাদ্য তৈরি ও রঙের জন্য প্লাস্টিড থাকে। | প্লাস্টিড থাকে না। |
| সেন্ট্রোজোম | উন্নত উদ্ভিদে সেন্ট্রোজোম থাকে না। | কোশ বিভাজনের জন্য সেন্ট্রোজোম থাকে। |
| গহ্বর (Vacuole) | কোশের মাঝে বড়ো ও স্থায়ী গহ্বর থাকে। | গহ্বর থাকলেও তা আকারে খুব ছোট ও অস্থায়ী। |
| লাইসোজোম | সাধারণত থাকে না। | পরিপাকের জন্য প্রচুর লাইসোজোম থাকে। |
৩. মানবদেহের বিভিন্ন কোশের আকৃতির সাথে তাদের কাজের সম্পর্ক কীভাবে যুক্ত? উদাহরণ দিয়ে বোঝাও।
কোশের আকৃতি তার নির্দিষ্ট কাজের ওপর নির্ভর করে। যেমন:
- লোহিত রক্তকণিকা (RBC): এর আকৃতি গোলাকার ও দু-দিক চ্যাপটা। এই আকৃতির জন্য এর পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেশি হয়, ফলে এটি দ্রুত অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। চ্যাপটা হওয়ায় সরু রক্তনালীর মধ্য দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে।
- পেশিকোশ: এটি মাকু আকৃতির বা লম্বা তন্তুর মতো। এই লম্বাটে গঠনের জন্য এরা সহজেই সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে, যা আমাদের চলাফেরায় সাহায্য করে।
- স্নায়ুকোশ (Neuron): এর মূল দেহটি তারার মতো এবং এর থেকে লম্বা লেজের মতো ‘অ্যাক্সন’ বের হয়। এই তারের মতো লম্বা গঠনের কারণে এরা শরীর থেকে দ্রুত সংকেত বা বার্তা মস্তিষ্কে পৌঁছে দিতে পারে (এটি ১ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে)।
- শ্বেত রক্তকণিকা: এদের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। এরা ক্ষণপদ তৈরি করে আকার পাল্টাতে পারে, যার ফলে শরীরে ঢোকা রোগজীবাণুকে ঘিরে ফেলে গিলে ফেলতে পারে।
৪. উদ্ভিদকোশে গহ্বর (Vacuole)-এর কাজ কী? লাইসোজোমকে প্রাণীকোশের ‘আত্মঘাতী থলি’ বলা হয় কেন?
উদ্ভিদকোশে গহ্বর (Vacuole)-এর কাজ:
উদ্ভিদকোশের অনেকটা জায়গা জুড়ে একটি বড়ো গহ্বর থাকে, যা ‘টনোপ্লাস্ট’ নামক পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে। এর ভেতরে থাকা তরলকে ‘কোশরস’ বলে। এর কাজ হলো:
১. কোশের প্রয়োজনীয় জল, খনিজ লবণ, শর্করা ও বর্জ্য পদার্থ সঞ্চয় করে রাখা。
২. কোশের ভেতরে নির্দিষ্ট চাপ বজায় রেখে গাছকে সোজা ও দৃঢ় রাখা।
লাইসোজোমকে ‘আত্মঘাতী থলি’ (Suicidal Bag) বলার কারণ:
লাইসোজোমের ভেতরে শক্তিশালী পরিপাককারী উৎসেচক (Enzymes) থাকে, যা জীবাণু ধ্বংস করে। কিন্তু কোশটি যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, অসুস্থ হয়ে পড়ে বা বুড়ো হয়ে যায়, তখন লাইসোজোমের পর্দা ফেটে যায় এবং ভেতরের উৎসেচকগুলো বেরিয়ে এসে নিজের কোশটিকেই সম্পূর্ণ হজম করে ধ্বংস করে ফেলে। নিজের কোশকে মেরে ফেলে বলেই একে ‘আত্মঘাতী থলি’ বলা হয়।
৫. বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য জীবের কোশীয় অভিযোজন (Cellular Adaptation) কীভাবে ঘটে?
প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য জীবের কোশের গঠনে কিছু বিশেষ পরিবর্তন ঘটে, একেই কোশীয় অভিযোজন বলে।
- মরুভূমির পরিবেশ (ক্যাকটাস): জলের অভাব মেটাতে ক্যাকটাস গাছের কাণ্ডের কোশগুলোতে বিশাল আকারের গহ্বর (Vacuole) থাকে, যা জল সঞ্চয় করে রাখে। পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় যাতে বাষ্পমোচন কম হয়।
- মেরু অঞ্চল (মেরু ভল্লুক): অতিরিক্ত ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে এদের ত্বকের নিচে পুরু চর্বির স্তর (Adipose Tissue) থাকে, যা তাপ ধরে রাখে। এদের কোশে প্রচুর মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে যা কাঁপুনি ছাড়াই তাপ উৎপাদন করে।
- অক্সিজেনের চাহিদা (পেশিকোশ): আমাদের হাত-পায়ের পেশিকে বেশি খাটতে হয় বলে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই এই কোশগুলোতে অন্যান্য কোশের তুলনায় মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা অনেক বেশি থাকে।
💡 একনজরে মনে রেখো! (Quick Revision)
- রবার্ট হুক (১৬৬৫): মৃত কোশ আবিষ্কার করেন।
- লিউয়েনহুক (১৬৭৪): প্রথম সজীব কোশ পর্যবেক্ষণ করেন।
- নিউক্লিয়াস: কোশের মস্তিষ্ক (Brain of the cell)।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: কোশের শক্তিঘর (Powerhouse)।
- রাইবোজোম: প্রোটিন কারখানা (Protein Factory)।
- গলজি বস্তু: কোশের প্যাকেজিং সেন্টার।
- লাইসোজোম: আত্মঘাতী থলি (Suicidal Bag)।
- সবচেয়ে বড়ো কোশ: উটপাখির ডিম। সবচেয়ে দীর্ঘ কোশ: স্নায়ুকোশ।