WBBSE Class 8 Poribesh O Biggan Chapter 4 কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ | Carbon & Its Compounds

Chapter 4 সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | 23 MCQ | 10 SAQ | 7 Broad Questions

অষ্টম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান – চতুর্থ অধ্যায়: কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর)

১. প্রকৃতিতে প্রাপ্ত কার্বনের কোন রূপভেদটি সর্বাধিক কঠিন?

ক) গ্রাফাইট
খ) হিরে (ডায়মন্ড)
গ) ফুলারিন
ঘ) কাঠকয়লা

সঠিক উত্তর: খ) হিরে (ডায়মন্ড)

বিশ্লেষণ: হিরে প্রাকৃতিক পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে শক্ত। এর ত্রিমাত্রিক আণবিক গঠনে কার্বন পরমাণুগুলি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে, ফলে কোনো ফাঁক থাকে না। কাচ কাটা এবং খনিতে পাথর ছিদ্র করার যন্ত্রে (Drilling) হিরে ব্যবহার করা হয়।

২. গ্রাফাইটের আণবিক গঠন কীরূপ হয়ে থাকে?

ক) ত্রিমাত্রিক জালিকা
খ) স্তরীভূত (সমান্তরাল স্তরে সজ্জিত)
গ) ফুটবল আকৃতি
ঘ) অনিয়তাকার

সঠিক উত্তর: খ) স্তরীভূত (সমান্তরাল স্তরে সজ্জিত)

বিশ্লেষণ: গ্রাফাইটের কার্বন পরমাণুগুলি সমান্তরাল স্তরে বা লেয়ারে সজ্জিত থাকে। দুটি স্তরের মধ্যে আকর্ষণ বল অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় একটি স্তর অন্যটির ওপর দিয়ে সহজেই পিছলে যেতে পারে। এই ধর্মের কারণেই পেনসিলের শিস দিয়ে কাগজে দাগ কাটা সম্ভব হয়।

৩. অধাতু হওয়া সত্ত্বেও গ্রাফাইট তড়িতের সুপরিবাহী কেন?

ক) স্তরে স্তরে আয়ন থাকে
খ) প্রতিটি কার্বন পরমাণুতে একটি মুক্ত ইলেকট্রন থাকে
গ) ধাতব বন্ধন থাকে
ঘ) জলে দ্রবীভূত হয়

সঠিক উত্তর: খ) প্রতিটি কার্বন পরমাণুতে একটি মুক্ত ইলেকট্রন থাকে

বিশ্লেষণ: গ্রাফাইটের প্রতিটি কার্বন পরমাণু অন্য তিনটি কার্বনের সঙ্গে সমযোজী বন্ধন তৈরি করে, যার ফলে চতুর্থ ইলেকট্রনটি মুক্ত অবস্থায় থাকে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলি স্তরের মধ্যে সহজে চলাচল করে তড়িৎ পরিবহণ করে। ব্যাটারির তড়িৎদ্বার তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়।

৪. হিরে ও গ্রাফাইটের মধ্যে কোনটিকে শুষ্ক পিচ্ছিলকারক (Dry Lubricant) হিসেবে ব্যবহার করা হয়?

ক) হিরে
খ) গ্রাফাইট
গ) দুটিই
ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: খ) গ্রাফাইট

বিশ্লেষণ: গ্রাফাইটের স্তরগুলির মধ্যকার দুর্বল আকর্ষণ বলের কারণে এরা একে অপরের ওপর দিয়ে পিছলে যেতে পারে। তাই ভারী যন্ত্রপাতিতে তেলের সঙ্গে গ্রাফাইট গুঁড়ো মিশিয়ে পিচ্ছিলকারক বা লুব্রিক্যান্ট হিসেবে কাজে লাগানো হয়।

৫. হিরের তাপ পরিবহণ ক্ষমতা বা তাপ পরিবাহিতা কেমন?

ক) কুপরিবাহী
খ) সর্বোচ্চ তাপ সুপরিবাহী (সাধারণ তাপমাত্রায়)
গ) মাঝারি
ঘ) তাপ পরিবহণ করে না

সঠিক উত্তর: খ) সর্বোচ্চ তাপ সুপরিবাহী (সাধারণ তাপমাত্রায়)

বিশ্লেষণ: ঘরের তাপমাত্রায় (25°C) হিরের তাপ পরিবাহিতা অন্য যেকোনো কঠিন পদার্থের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। দ্রুত তাপ ছড়িয়ে দেওয়ার এই অসামান্য ক্ষমতার জন্য আধুনিক ইলেকট্রনিক সার্কিট বা বর্তনী তৈরিতে কৃত্রিম হিরের পাতলা স্তর ব্যবহার করা হয়।

৬. ফুলারিন (Fullerene) অণুতে সাধারণত কতগুলি কার্বন পরমাণু যুক্ত থাকে?

ক) ৬টি
খ) ৬০ বা ৭০টি
গ) ১০০০টি
ঘ) ২টি

সঠিক উত্তর: খ) ৬০ বা ৭০টি

বিশ্লেষণ: ফুলারিন হলো কার্বনের একটি বিশেষ আণবিক রূপভেদ। এর সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলো C₆₀ (বাকমিনস্টারফুলারিন), যা দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ন্যানোটেকনোলজিতে এর ব্যাপক প্রয়োগ রয়েছে।

৭. চারকোল বা কাঠকয়লার ‘অধিশোষণ’ ধর্মের প্রধান ব্যবহার কী?

ক) তাপ পরিবহণ
খ) জল পরিশোধন এবং বিষাক্ত গ্যাস শোষণ
গ) তড়িৎ পরিবহণ
ঘ) জ্বালানি হিসেবে

সঠিক উত্তর: খ) জল পরিশোধন এবং বিষাক্ত গ্যাস শোষণ

বিশ্লেষণ: কাঠকয়লার পৃষ্ঠতল অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় এটি বিভিন্ন গ্যাস বা পদার্থের অণুকে নিজের গায়ে আটকে রাখতে পারে। এই ধর্মকে অধিশোষণ (Adsorption) বলে। জল থেকে দুর্গন্ধ ও রং দূর করতে এবং গ্যাস মাস্কে বিষাক্ত গ্যাস শোষণের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।

৮. পরীক্ষাগারে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস তৈরি করতে কোন দুটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়?

ক) Zn + H₂SO₄
খ) মার্বেল পাথর (CaCO₃) এবং লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)
গ) Na₂O₂ + H₂O
ঘ) KClO₃ + MnO₂

সঠিক উত্তর: খ) মার্বেল পাথর (CaCO₃) এবং লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)

বিশ্লেষণ: মার্বেল চূর্ণের সঙ্গে লঘু HCl যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় CO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা যায় না, কারণ এতে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম সালফেটের আস্তরণ তৈরি হয়ে বিক্রিয়া মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।

৯. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস শনাক্ত করার প্রধান পরীক্ষা কোনটি?

ক) ‘পপ’ শব্দ হয়
খ) স্বচ্ছ চুনজলকে ঘোলা করে
গ) শিখাসহ জ্বলে
ঘ) লিটমাস নীল হয়

সঠিক উত্তর: খ) স্বচ্ছ চুনজলকে ঘোলা করে

বিশ্লেষণ: CO₂ গ্যাসকে স্বচ্ছ চুনজলের (ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ) মধ্যে দিয়ে পাঠালে অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) তৈরি হয়, যার ফলে চুনজল ঘোলাটে বা দুধের মতো সাদা হয়ে যায়। অতিরিক্ত গ্যাস পাঠালে তা আবার স্বচ্ছ হয়ে যায়।

১০. CO₂ গ্যাস যে বায়ুর চেয়ে ভারী, তা কীভাবে প্রমাণ করা যায়?

ক) CO₂ ভর্তি বেলুন উপরে ওঠে
খ) CO₂ ভর্তি বেলুন হাওয়ায় ভাসে না, নিচে পড়ে যায়
গ) CO₂ গ্যাসের রং দেখা যায়
ঘ) CO₂ জলে দ্রবীভূত হয়

সঠিক উত্তর: খ) CO₂ ভর্তি বেলুন হাওয়ায় ভাসে না, নিচে পড়ে যায়

বিশ্লেষণ: কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস সাধারণ বায়ুর তুলনায় প্রায় ১.৫ গুণ বেশি ভারী। একটি বেলুনে CO₂ ভরে ছেড়ে দিলে তা ওপরের দিকে না উড়ে সোজাসুজি মাটিতে নেমে আসে।

১১. কার্বন ডাইঅক্সাইড জলে দ্রবীভূত হলে কোন অ্যাসিড উৎপন্ন হয়?

ক) CaCO₃
খ) কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃)
গ) CO
ঘ) CH₄

সঠিক উত্তর: খ) কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃)

বিশ্লেষণ: জলের সঙ্গে CO₂-এর বিক্রিয়ায় দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) তৈরি হয়, যা নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। সোডা ওয়াটার বা কোমল পানীয়ের বোতলে উচ্চচাপে এই গ্যাসই দ্রবীভূত থাকে।

১২. নিচের কোন গ্যাসটিকে গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বলা হয়?

ক) O₂
খ) N₂
গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)
ঘ) H₂

সঠিক উত্তর: গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)

বিশ্লেষণ: CO₂, মিথেন (CH₄), জলীয় বাষ্প, নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) এবং ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) হলো প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। এরা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় (বিশ্ব উষ্ণায়ন)। অক্সিজেন বা নাইট্রোজেন গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।

১৩. জীবাশ্ম জ্বালানি বা ফসিল ফুয়েল (Fossil Fuel)-এর সঠিক উদাহরণ কোনগুলি?

ক) সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি
খ) কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস
গ) জৈব গ্যাস, বায়োডিজেল
ঘ) জলবিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি

সঠিক উত্তর: খ) কয়লা, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস

বিশ্লেষণ: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চচাপ ও তাপের প্রভাবে যে জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে, তাদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। এগুলি অনবীকরণযোগ্য বা ফুরিয়ে যাওয়ার মতো শক্তির উৎস।

১৪. বায়োগ্যাস বা জৈব গ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?

ক) CO₂
খ) মিথেন (CH₄)
গ) H₂
ঘ) O₂

সঠিক উত্তর: খ) মিথেন (CH₄)

বিশ্লেষণ: গবাদি পশুর মল, কৃষিজ বর্জ্য ও পচনশীল আবর্জনা বায়ুর অনুপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বিয়োজিত হয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে। এর মূল উপাদান হলো মিথেন (প্রায় ৬০-৭০%) এবং বাকিটা কার্বন ডাইঅক্সাইড। এটি রান্নার কাজে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে দারুণ কার্যকর।

১৫. জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কোন বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়?

ক) অ্যামোনিয়া (NH₃)
খ) কার্বন মনোক্সাইড (CO)
গ) অক্সিজেন (O₂)
ঘ) নাইট্রোজেন (N₂)

সঠিক উত্তর: খ) কার্বন মনোক্সাইড (CO)

বিশ্লেষণ: অক্সিজেনের অভাব থাকলে জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে পুড়তে পারে না, ফলে কার্বন মনোক্সাইড (CO) তৈরি হয়। এই গ্যাস রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেনের চেয়ে ২০০ গুণ দ্রুত মিশে যায় এবং শ্বাসরোধ করে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

১৬. অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain) হওয়ার পেছনে মূল কারণ কী?

ক) CO₂
খ) বাতাসে থাকা SO₂ এবং NO₂ বৃষ্টির জলে দ্রবীভূত হওয়া
গ) O₂
ঘ) N₂

সঠিক উত্তর: খ) বাতাসে থাকা SO₂ এবং NO₂ বৃষ্টির জলে দ্রবীভূত হওয়া

বিশ্লেষণ: শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂) বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে যথাক্রমে সালফিউরিক অ্যাসিড এবং নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে। এর ফলে মাটি, ফসল ও প্রাচীন সৌধের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

১৭. বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) আটকানোর জন্য আমাদের কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?

ক) বেশি করে গাছ লাগানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো
খ) বেশি কয়লা পোড়ানো
গ) বন কেটে ফেলা
ঘ) প্লাস্টিক পোড়ানো

সঠিক উত্তর: ক) বেশি করে গাছ লাগানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো

বিশ্লেষণ: গাছ প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে, তাই বৃক্ষরোপণ সবচেয়ে জরুরি। এর পাশাপাশি কয়লা বা পেট্রোলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

১৮. কয়লা সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ও কার্যকরী পদ্ধতিটি কী?

ক) কয়লা পোড়ানো
খ) কোল ওয়াশিং (Coal Washing)
গ) কয়লা জলে ফেলা
ঘ) কয়লা রোদে শুকানো

সঠিক উত্তর: খ) কোল ওয়াশিং (Coal Washing)

বিশ্লেষণ: কয়লা খনি থেকে তোলার পর যান্ত্রিক উপায়ে তা ধুয়ে মাটি, পাথর ও সালফারের মতো অশুদ্ধি দূর করা হয়। একে ‘কোল ওয়াশিং’ বলে। এর ফলে উন্নতমানের কয়লা পাওয়া যায় যা পোড়ালে ছাই ও ধোঁয়া কম উৎপন্ন হয়।

১৯. পলিমার (Polymer) বলতে কী বোঝায়?

ক) একক অণু
খ) বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র অণু রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে গঠিত দীর্ঘ শৃঙ্খল যৌগ
গ) ধাতব যৌগ
ঘ) গ্যাসীয় মৌল

সঠিক উত্তর: খ) বহুসংখ্যক ক্ষুদ্র অণু রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে গঠিত দীর্ঘ শৃঙ্খল যৌগ

বিশ্লেষণ: যখন একই বা ভিন্ন ধরনের অসংখ্য ছোট ছোট অণু (মনোমার) রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরপর যুক্ত হয়ে একটি বিশাল অণু বা চেইন তৈরি করে, তখন তাকে পলিমার বলে। উদাহরণ: ইথিলিন থেকে পলিথিন।

২০. পলিথিনের (Polythene) প্রধান ধর্ম ও ব্যবহার কী?

ক) নমনীয় এবং তড়িতের কুপরিবাহী — প্যাকেজিং ও পাইপ তৈরিতে
খ) শক্ত, তাপ সহনশীল — বৈদ্যুতিক তার
গ) তড়িতের সুপরিবাহী — ব্যাটারি
ঘ) জলে দ্রাব্য — ওষুধ

সঠিক উত্তর: ক) নমনীয় এবং তড়িতের কুপরিবাহী — প্যাকেজিং ও পাইপ তৈরিতে

বিশ্লেষণ: পলিথিন অত্যন্ত নমনীয়, রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং তড়িতের কুপরিবাহী একটি পলিমার। এটি মূলত ক্যারি ব্যাগ, জলের পাইপ, বোতল এবং রাসায়নিক পাত্র তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

২১. টেফলন (Teflon)-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য কোনটি?

ক) তড়িতের সুপরিবাহী
খ) উচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট এবং ক্ষয়কারী রাসায়নিকের প্রতি নিষ্ক্রিয়
গ) জলে দ্রাব্য
ঘ) ভঙ্গুর

সঠিক উত্তর: খ) উচ্চ গলনাঙ্কবিশিষ্ট এবং ক্ষয়কারী রাসায়নিকের প্রতি নিষ্ক্রিয়

বিশ্লেষণ: টেফলন বা PTFE অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় গলে না এবং তীব্র অ্যাসিড বা ক্ষারে নষ্ট হয় না। রান্না করার সময় যাতে পাত্রের গায়ে খাবার আটকে না যায়, তাই নন-স্টিক ফ্রাইং প্যানে (Non-stick cookware) টেফলনের প্রলেপ দেওয়া হয়।

২২. পিভিসি (PVC) পলিমারটি প্রধানত কী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?

ক) সোনার গয়না
খ) জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ এবং কৃত্রিম চামড়া
গ) খাদ্যদ্রব্য
ঘ) ওষুধ

সঠিক উত্তর: খ) জলের পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের আবরণ এবং কৃত্রিম চামড়া

বিশ্লেষণ: পিভিসি (Polyvinyl Chloride) অত্যন্ত শক্ত এবং জল, তেল বা রাসায়নিকের প্রতি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। তাই এটি জলের পাইপ, ইলেকট্রিক তারের বাইরের ইনসুলেশন, রেইনকোট এবং কৃত্রিম চামড়া বা রেক্সিন তৈরিতে কাজে লাগে।

২৩. টেরিলিন (Terylene) কাপড়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

ক) জল শোষণ করে না, সহজে ভাঁজ পড়ে না এবং অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী
খ) তুলোর মতো জল শোষণ করে
গ) খুব ভারী
ঘ) সহজে ছিঁড়ে যায়

সঠিক উত্তর: ক) জল শোষণ করে না, সহজে ভাঁজ পড়ে না এবং অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী

বিশ্লেষণ: টেরিলিন বা পলিয়েস্টার হলো একটি কৃত্রিম তন্তু। এটি অত্যন্ত মজবুত, সহজে দাগ ধরে না এবং কাচার পর ইস্ত্রি করার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। সুতোর সঙ্গে টেরিলিন মিশিয়ে ‘টেরিকট’ তৈরি করা হয়, যা আর্দ্র ও গরমের দেশের জন্য খুব আরামদায়ক।

অষ্টম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান – চতুর্থ অধ্যায়: কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ (SAQ ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অষ্টম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ের ‘কার্বন ও কার্বনঘটিত যৌগ’ অধ্যায়টি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রছাত্রীদের সহজে মনে রাখার ও পরীক্ষায় নিখুঁত উত্তর লেখার সুবিধার্থে এই অধ্যায়ের বাছাই করা সংক্ষিপ্ত (SAQ) ও বড়ো প্রশ্নোত্তরগুলো সহজ ভাষায় নিচে আলোচনা করা হলো।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) – মান ২/৩

১. হিরে ও গ্রাফাইটের গঠনগত পার্থক্য কীভাবে তাদের ভৌত ধর্ম নির্ধারণ করে?

বিষয় হিরে (Diamond) গ্রাফাইট (Graphite)
গঠন ত্রিমাত্রিক জালিকা, পরমাণুগুলি দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। স্তরীভূত বা লেয়ার গঠন, স্তরগুলির মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ।
তড়িৎ পরিবাহিতা তড়িতের কুপরিবাহী (মুক্ত ইলেকট্রন নেই)। তড়িতের সুপরিবাহী (মুক্ত ইলেকট্রন আছে)।
কাঠিন্য প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন পদার্থ। নরম ও পিচ্ছিল প্রকৃতির।

বিশ্লেষণ: হিরেতে প্রতিটি কার্বন পরমাণু ৪টি কার্বনের সঙ্গে শক্ত সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় এটি অত্যন্ত কঠিন এবং মুক্ত ইলেকট্রন না থাকায় অন্তরক। অন্যদিকে, গ্রাফাইটে প্রতিটি কার্বন ৩টি কার্বনের সাথে যুক্ত থাকায় ১টি ইলেকট্রন মুক্ত থাকে (তাই তড়িৎ পরিবাহী)। এর স্তরগুলির মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকায় এটি নরম ও পিচ্ছিলকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২. ফুলারিন (Fullerene) কী? এর গঠন ও ব্যবহার সম্পর্কে লেখো।

ফুলারিন: এটি কার্বনের একটি বিশেষ আণবিক রূপভেদ (যেমন- C₆₀, C₇₀)।

গঠন: C₆₀ অণুতে ৬০টি কার্বন পরমাণু ২০টি ষড়ভুজ ও ১২টি পঞ্চভুজ আকারে একটি ফুটবলের মতো গোলক তৈরি করে।

ব্যবহার: ১. আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে আণবিক ডিভাইস তৈরিতে। ২. চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট কোষে ওষুধ পৌঁছে দিতে (Drug Delivery)। ৩. অতিপরিবাহী (Superconductor) যৌগ তৈরিতে।

৩. কাঠকয়লার (Charcoal) ‘অধিশোষণ’ ধর্ম কী? এটি পরীক্ষার মাধ্যমে কীভাবে প্রমাণ করবে?

অধিশোষণ: কোনো কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠতলে গ্যাস, তরল বা রঙের অণু আটকে রাখার ক্ষমতাকে অধিশোষণ বলে। কাঠকয়লা অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় এটি একটি চমৎকার অধিশোষক।

পরীক্ষা: একটি ফ্লাস্কে জলের মধ্যে সামান্য কালি বা রং গুলে নিতে হবে। এবার তাতে কিছুটা কাঠকয়লার গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে রেখে দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর মিশ্রণটি ফিল্টার করলে দেখা যাবে পরিস্রুত তরলটি সম্পূর্ণ বর্ণহীন। কারণ, কাঠকয়লা রঙের অণুগুলোকে নিজের গায়ে আটকে (অধিশোষণ) নিয়েছে।

৪. পরীক্ষাগারে CO₂ প্রস্তুতির পদ্ধতি ও সমীকরণ লেখো। এতে সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) ব্যবহার করা যায় না কেন?

প্রয়োজনীয় উপাদান: মার্বেল চূর্ণ (CaCO₃) এবং লঘু হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।

সমীকরণ: CaCO₃ + 2HCl → CaCl₂ + CO₂↑ + H₂O

H₂SO₄ ব্যবহার না করার কারণ: মার্বেল পাথরের সঙ্গে H₂SO₄-এর বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালশিয়াম সালফেট (CaSO₄) তৈরি হয়। এটি মার্বেল টুকরোর গায়ে একটি আস্তরণ তৈরি করে, যার ফলে অ্যাসিড আর মার্বেলের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং বিক্রিয়া মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়।

৫. CO₂ গ্যাসের রাসায়নিক ধর্মগুলি সমীকরণসহ আলোচনা করো।

  • অম্লীয় ধর্ম: জলে দ্রবীভূত হয়ে এটি দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে। (CO₂ + H₂O → H₂CO₃)
  • চুনজলের সাথে বিক্রিয়া: CO₂ গ্যাস স্বচ্ছ চুনজলের মধ্য দিয়ে পাঠালে অদ্রবণীয় ক্যালশিয়াম কার্বনেট তৈরি হয়, ফলে চুনজল ঘোলা হয়ে যায়। (Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ + H₂O)
  • দহন: CO₂ নিজে জ্বলে না এবং জ্বলতে সাহায্যও করে না। তাই এটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

৬. গ্রিনহাউস এফেক্ট (Greenhouse Effect) কী? এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলি কী কী?

গ্রিনহাউস এফেক্ট: বায়ুমণ্ডলের কিছু নির্দিষ্ট গ্যাস (যেমন- CO₂, CH₄, জলীয় বাষ্প) সূর্য থেকে আসা ছোট তরঙ্গের আলো পৃথিবীতে ঢুকতে দেয়, কিন্তু পৃথিবী থেকে ফিরে যাওয়া বড় তরঙ্গের তাপকে আটকে দেয়। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। একেই গ্রিনহাউস এফেক্ট বলে।

ক্ষতিকর প্রভাব (বিশ্বউষ্ণায়ন): এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে এবং সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

৭. বায়োগ্যাস বা জৈব গ্যাস কী? এটি পরিবেশবান্ধব কেন?

বায়োগ্যাস: গোবর, কৃষিজ বর্জ্য বা পচনশীল আবর্জনাকে বাতাসের অনুপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পচিয়ে যে গ্যাস উৎপন্ন হয়, তাকে বায়োগ্যাস বলে। এর প্রধান উপাদান মিথেন (CH₄) প্রায় ৬০-৭০%।

পরিবেশবান্ধব কেন: ১. এটি নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস। ২. এই গ্যাস পোড়ালে দূষণ ছড়ায় না। ৩. বর্জ্য পদার্থের সঠিক নিষ্কাশন হয় এবং অবশিষ্ট অংশ উন্নতমানের জৈব সার হিসেবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

৮. জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের উপায় এবং বিকল্প শক্তির উৎস সম্পর্কে লেখো।

সংরক্ষণের উপায়: ১. অপ্রয়োজনে আলো, পাখা ও যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা। ২. ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে সাইকেল বা গণপরিবহণ (বাস, ট্রেন) ব্যবহার করা। ৩. কয়লা ধুয়ে (Coal Washing) উন্নত মানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা।

বিকল্প শক্তির উৎস: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে আমাদের নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ এবং জোয়ারভাটার শক্তি।

৯. পলিমার কাকে বলে? পলিথিন ও পিভিসি (PVC)-র ব্যবহার লেখো।

পলিমার: অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু (মনোমার) রাসায়নিকভাবে পরস্পর যুক্ত হয়ে যখন একটি বিশালাকার শৃঙ্খল গঠন করে, তখন তাকে পলিমার বলে।

  • পলিথিন: এটি নমনীয় ও রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়। ক্যারি ব্যাগ, জলের বোতল এবং প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
  • PVC (পলিভিনাইল ক্লোরাইড): শক্ত এবং জলরোধী হওয়ায় জলের পাইপ, ইলেকট্রিক তারের আবরণ এবং কৃত্রিম চামড়া (রেক্সিন) তৈরিতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

১০. কৃত্রিম পলিমার বা প্লাস্টিক ব্যবহারের সুবিধা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলি কী কী?

সুবিধা: এগুলো খুব দীর্ঘস্থায়ী, সহজে ছাঁচে ফেলে যেকোনো আকার দেওয়া যায়, ওজনে হালকা, সস্তা এবং তাপ ও তড়িতের কুপরিবাহী।

সমস্যা: প্লাস্টিক ‘অ-জৈব-অবিয়োজনযোগ্য’ (Non-biodegradable), অর্থাৎ মাটিতে মেশে না। ফলে এটি ভয়ংকর মাটি ও জল দূষণ ঘটায়। নর্দমা আটকে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং পোড়ালে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।


রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (Broad Questions) – মান ৫

১. কার্বনের রূপভেদ (Allotropes) বলতে কী বোঝো? হিরে, গ্রাফাইট ও ফুলারিনের একটি তুলনামূলক আলোচনা করো।

রূপভেদ: একই মৌলিক পদার্থ যখন প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করে (যাদের রাসায়নিক ধর্ম এক কিন্তু ভৌত ধর্ম আলাদা), তাকে রূপভেদ বলে। কার্বনের প্রধান রূপভেদ হলো হিরে, গ্রাফাইট ও ফুলারিন।

বৈশিষ্ট্য হিরে গ্রাফাইট ফুলারিন
গঠন ত্রিমাত্রিক জালিকা সমান্তরাল স্তরীভূত চাদর ফুটবল আকৃতির গোলক
ভৌত অবস্থা প্রকৃতির কঠিনতম পদার্থ নরম ও পিচ্ছিল আণবিক কঠিন পদার্থ
তড়িৎ পরিবাহিতা তড়িতের কুপরিবাহী তড়িতের সুপরিবাহী অর্ধপরিবাহী

২. জীবাশ্ম জ্বালানি কী? এর শ্রেণিবিভাগ এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

জীবাশ্ম জ্বালানি: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ মাটির নিচে চাপা পড়ে উচ্চচাপ ও তাপের প্রভাবে যে জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।

শ্রেণিবিভাগ: এটি প্রধানত তিন প্রকার— ১. কঠিন (কয়লা), ২. তরল (পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল) এবং ৩. গ্যাসীয় (প্রাকৃতিক গ্যাস বা CNG)।

সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা: জীবাশ্ম জ্বালানি হলো ‘অনবীকরণযোগ্য’ শক্তির উৎস। এটি তৈরি হতে কোটি কোটি বছর সময় লাগে, কিন্তু আমরা যে হারে এটি ব্যবহার করছি, তাতে অদূর ভবিষ্যতেই পৃথিবীর সমস্ত কয়লা ও পেট্রোলিয়াম শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া এগুলো পোড়ালে ভয়ংকর পরিবেশ দূষণ হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এবং দূষণ রুখতে এর সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

৩. বিশ্বউষ্ণায়ন (Global Warming) কী? এর কারণ, ফলাফল ও প্রতিকারের উপায়গুলি বিস্তারিত বর্ণনা করো।

বিশ্বউষ্ণায়ন: গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকেই বিশ্বউষ্ণায়ন বলে।

কারণ: কলকারখানা ও যানবাহনে যথেচ্ছ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, ব্যাপক হারে গাছ কাটা এবং রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত CFC গ্যাসের কারণে বাতাসে CO₂, CH₄ ইত্যাদি গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফলাফল: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটছে এবং আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

প্রতিকার: বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধ করতে হবে।

৪. কৃত্রিম পলিমারের ব্যবহার, পরিবেশগত সমস্যা এবং সমাধানের উপায়গুলি আলোচনা করো।

ব্যবহার: পলিথিন, টেফলন, পিভিসি, নাইলন ইত্যাদি পলিমার দৈনন্দিন জীবনে পাইপ, জলের বোতল, জামাকাপড়, ইলেকট্রিক তারের কভার ও নন-স্টিক পাত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

পরিবেশগত সমস্যা: প্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার মাটিতে মেশে না। এরা মাটির উর্বরতা কমায়, নদী-নালা আটকে দেয় এবং সমুদ্রের প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়। প্লাস্টিক পোড়ালে ডাইঅক্সিনের মতো বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়।

সমাধান: প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে 3R নীতি (Reduce, Reuse, Recycle) মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ ব্যবহার কমানো, বারবার ব্যবহার করা এবং পুনরায় গলিয়ে নতুন জিনিস তৈরি করা। একবার ব্যবহারযোগ্য (Single-use) প্লাস্টিক বর্জন করে কাপড়ের বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

৫. নবীকরণযোগ্য (Renewable) ও অনবীকরণযোগ্য (Non-renewable) শক্তির উৎস বলতে কী বোঝো? উদাহরণসহ পার্থক্য লেখো।

অনবীকরণযোগ্য শক্তি: যে শক্তির উৎস প্রকৃতিতে সীমিত এবং একবার শেষ হয়ে গেলে আর পুনরায় তৈরি করা সম্ভব নয়। যেমন— কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস। এগুলো পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

নবীকরণযোগ্য শক্তি: যে শক্তির উৎস অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করলেও শেষ হয় না। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ এবং জৈব গ্যাস। এগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং দূষণমুক্ত। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে আমাদের অনবীকরণযোগ্য শক্তি ছেড়ে নবীকরণযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে।

৬. জ্বালানির দহনে পরিবেশের ওপর কী কী ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে? অ্যাসিড বৃষ্টি ও ধোঁয়াশার কারণ লেখো।

ক্ষতিকর প্রভাব: জ্বালানি পোড়ালে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড বাড়ে যা বিশ্বউষ্ণায়ন ঘটায়। অসম্পূর্ণ দহনে তৈরি হয় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড (CO), যা শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

অ্যাসিড বৃষ্টি: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামে থাকা সালফার ও নাইট্রোজেন পুড়ে SO₂ ও NO₂ গ্যাস তৈরি করে। এগুলো বৃষ্টির জলের সাথে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে মাটিতে ঝরে পড়ে। একেই অ্যাসিড বৃষ্টি বলে। এর ফলে ফসল, স্মৃতিসৌধ (যেমন- তাজমহল) এবং জলজ প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ধোঁয়াশা (Smog): যানবাহনের ধোঁয়ায় থাকা নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলো শীতকালের কুয়াশার সাথে মিশে বিষাক্ত ধোঁয়াশা তৈরি করে, যা মানুষের ফুসফুসের চরম ক্ষতি করে।

৭. কার্বনঘটিত যৌগের বিপুল বৈচিত্র্যের কারণ কী? জীবজগতে ও দৈনন্দিন জীবনে কার্বনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

বৈচিত্র্যের কারণ: কার্বনের যোজ্যতা ৪ (চতুর্যোজী)। কার্বন পরমাণুগুলি নিজেদের মধ্যে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ শৃঙ্খল বা চেইন তৈরি করতে পারে। কার্বনের এই বিশেষ ধর্মকে ক্যাটিনেশন (Catenation) ধর্ম বলে। এই কারণেই পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ জৈব যৌগ বা কার্বনঘটিত যৌগ বিদ্যমান।

জীবজগতে ভূমিকা: উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের প্রতিটি কোষে কার্বন আছে। আমাদের খাদ্যের প্রধান উপাদান— প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং শরীরের ডিএনএ (DNA), হরমোন ও এনজাইম সবই কার্বনঘটিত যৌগ।

দৈনন্দিন জীবনে: রান্নার গ্যাস (LPG), জ্বালানি (পেট্রোল), জামাকাপড় (নাইলন, টেরিলিন), ওষুধ, প্লাস্টিক, রং থেকে শুরু করে সাবান— আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রায় প্রতিটি জিনিসই কার্বনের অবদান।


💡 একনজরে মনে রেখো! (Quick Revision)

  • হিরে: সবচেয়ে কঠিন পদার্থ, তড়িতের কুপরিবাহী কিন্তু তাপের সুপরিবাহী।
  • গ্রাফাইট: নরম, পিচ্ছিল এবং তড়িতের সুপরিবাহী (পেনসিলের শিস তৈরিতে ব্যবহৃত)।
  • CO₂ গ্যাস শনাক্তকরণ: এটি স্বচ্ছ চুনজলকে ঘোলা করে দেয়।
  • গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂, CH₄ (মিথেন), N₂O, CFC। (O₂ বা N₂ গ্রিনহাউস গ্যাস নয়)।
  • অ্যাসিড বৃষ্টির প্রধান কারণ: বাতাসে থাকা SO₂ এবং NO₂।
  • 3R নীতি: Reduce (কমানো), Reuse (পুনর্ব্যবহার) এবং Recycle (পুনঃচক্রায়ন)।

Leave a Comment