Tales of Bhola Grandpa Manoj Das

গল্পটির সারসংক্ষেপ এবং রসগ্রাহী আলোচনা

বর্তমান পাঠ্যাংশটি একটি হাস্যরসাত্মক গল্প, যেটি হল মনোজ দাসের লেখা ছোটোগল্প ‘টেল্স অভ্ ভোলা গ্র্যান্ডপা’-এর সম্পাদিত রূপ। সাহিত্যকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়, ট্র্যাজিক এবং কমিক। ট্র্যাজিক সাহিত্য গুরুগম্ভীর,

যেখানে কমিক সাহিত্য হল হালকা মেজাজের এবং হাস্যরসাত্মক। এই হাস্যরসাত্মক উপাদানই আমাদের হাসির খোরাক জোগায়।

এখানে ভোলাদাদু এমন এক মানুষ তিনি প্রায়শই অনেক কিছু ভুলে যান। কিন্তু তিনি খুব সাদামাটা একজন মানুষ। এই ধরনের তিনটি গল্পের এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এক চন্দ্রালোকিত রাত্রে বস্তা দেখেছিলেন একটি উৎসব থেকে ফেরার পথে ভোলাদাদু কীভাবে তার নাতির কথাই ভুলে যান। ভোলাদাদু তাঁর নাতির আঙুলগুলি শক্ত করেই ধরে ছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন না ওই আঙুলগুলি কখন ফস্কে গেল। অন্যের সতর্কবাণী শুনে তিনি এই হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হন এবং চিৎকার করে বিলাপ করতে থাকেন। যাই হোক, অন্যদের সাহায্যে তাঁর নাতিকে খুঁজে পাওয়া যায় একটি গোরুর পেটের নীচ থেকে।

একদিন কথকের বাবা এবং তাঁর বন্ধুদের ভোলাদাদু বলেন যে তিনি নিজে দেখেছেন একদল জলদস্যু সমুদ্রতীরের বালিয়াড়ির মধ্যে কীসব লুকিয়ে রাখছে। তাঁরা ভাবলেন এগুলো নিশ্চয় কোনো মূল্যবান অলংকার অথবা অন্যকোনো মূল্যবান জিনিস হবে। তাঁরা খুঁজতে শুরু করলেন। দীর্ঘক্ষণের কষ্টসাধ্য অনুসন্ধানের পর ভোলাদাদু তাঁদেরকে বললেন যে, তিনি স্বপ্নে জলদস্যুদের দেখেছিলেন, বাস্তবে নয়। সকলেই হতাশ হলেন এবং ভোলাদাদুর ভুলোমনা স্বভাব নিয়ে অনেক হাসাহাসি করলেন।

একদিন সন্ধ্যায়, সুন্দরবনে, ভোলাদাদু যখন হাট থেকে ফিরছিলেন, একটি রয়‍্যাল বেঙ্গল টাইগারের একেবারে মুখোমুখি পড়ে যান। কোনোভাবে একটি বটগাছের ওপর উঠে পড়েন এবং সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচেও যান। কিন্তু বাঘটি তাঁর ওপর একটানা লক্ষ রাখছিল। রাত্রি হলে ভোলাদাদু গাছের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়লেন এবং গাছের নীচে বাঘটিও ঘুমিয়ে পড়ল। সকালে ঘুম থেকে জেগে, ভোলাদাদু গাছ থেকে নেমে এলেন এবং হেঁটে চলে গেলেন। তখন গাছের নীচে বাঘের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ ভুলেই গিয়েছিলেন। যেহেতু বাঘটিও ঘুমোচ্ছিল, তিনি বাঘের কবল থেকে বেঁচে গেলেন। যখন অন্য একজন লোক তাঁকে বাঘের কথা মনে করিয়ে দিল, তাঁর তো ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এই ধরনের ভুলে যাওয়ার গল্প দমফাটা হাসির জন্ম দেয়।

ভোলাদাদু দীর্ঘ জীবন লাভ করেছিলেন। পঁচানবই বছর বয়সে যখন তিনি মারা যান, তাঁর বৃদ্ধ স্ত্রী প্রচন্ড বিলাপ করেছিলেন এবং কাঁদতে কাঁদতে অনেকবার বলেছিলেন যে তাঁর স্বামী নিশ্চিতভাবেই শ্বাস নিতে ভুলে গিয়েছিলেন এবং সেইজন্যই তিনি মারা গেলেন।

ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য বাংলা লিপিতে পাঠ

ভোলা গ্র্যান্ডপা অ্যান্ড হিজ্ ওয়াইফ লিড্ অ্যাট্ দ্য ওয়েস্টার্ন এন্ড অভ্ আওয়ার ভিলেজ। আ লার্জ বোক্যাল্ ট্রি-ওভারশ্যাডোড্ দ্যেয়ার হাট্। ইন্ দ্য বোক্যাল্ ট্রি লিভড্ আ স্মল্ ট্রুপ্ অভ্ মাংকিস্। ভোলা গ্র্যান্ডপা অ্যাভ্ হিজ্ ওয়াইফ্ ডিড নট মাইন্ড ইট।

ওয়ান মুল্লি নাইট্, উই ওয়্যার রিটার্নিং ফ্রম আ ফেসটিভ্যাল্। দ্য রোড ওয়াজ লং অ্যান্ড ফগি। আই ওয়্যজ রাইডিং অন্ দ্য ভিলেজ চৌকিডারস্ সোলডারস্। সাডেনলি, ভোলা গ্র্যান্ডপা লেই আউট আ লাউড ওয়েল্। এভরিওয়ান্ ইন আওয়ার পার্টি ওয়াজ সারপ্রাইজড্। উই হল্টেড্। এনক্যুয়ারি রিভিড্ দ্যাট ভোলা গ্র্যান্ডপা হ্যাড টেকেন্ হিজ্ গ্র্যান্ডসন টু দ্য ফেসটিভ্যাল্। হি হ্যাড্ টাইল্লি হেল্ অন্ টু দ্য টু ফিংগারস্ অভ্ দ্য বয়। হি ডিড নট্ রিয়েলাইজ্ হোয়েন দোজ্ ফিংগারস্ স্লিস্ড আউট্। ভোলা গ্র্যান্ডপা ওয়াজ কন্টিনিউয়িং অ্যাজ্ বিফোর। দেন সামওয়ান আড্ ভোলা গ্র্যান্ডপা হোয়াট হি ওয়াজ গ্রিপিং। হি রিমেম্বার্ড্ হিজ্ গ্র্যান্ডসন্ অ্যান্ড লেট আউট্ আ লাউড্ ওয়েল্।

মাই ফাদার চোজ টু শার্প-আইড্ মেন্ ফ্রম আওয়ার পার্টি টু গো ব্যাক্ উইথ ভোলা গ্র্যান্ডপা টু দ্য ফেসটিভ্যাল্। দ্য গ্র্যান্ডসন্ ওয়াজ ফাউন্ড বিফোর লং। হি হ্যাড টেকেন্ আ কোজি শেলটার আন্ডার আ কাউজ্ বেলি।

আই রিমেমবার অ্যানাদার ফানি ইনসিডেন্ট অ্যাবাউট ভোলা গ্র্যান্ডপা রিলেটেড বাই মাই ফাদার। ইট হ্যাড্ বিন্ আ রেইনি আফটারনুন। ভোলা গ্র্যান্ডপা, ওয়াইল্ড উইথ এক্সসাইটমেন্ট, টোল্ড মাই ফাদার অ্যান্ড হিজ ফ্রেইন্ডস্ দ্যাট হি হ্যাড় সীন্ আ গ্যাং অভ্ পাইরেটস্। দে ওয়্যার বেরিয়িং আ লার্জ বক্স আন্ডার ওয়ান অভ দ্য স্যান্ড ডিউনস্ অন্ দ্য সাঁসোর বাই আওয়ার ভিলেজ। অ্যাট ওয়ানস্ ফাদার অ্যান্ড হিজ ফ্রেইনড়স স্টাটেড ইন্ ঘ্ন দ্য ক্লাউডস্। আ প্যাক্ অভ জ্যাকেলস্ ওয়্যার হাউলিং। ইট ওয়াজ লুকিং ফর দ্য হিডেন ট্রেজ্যার। ইভিনিং পাড় অন্ টি নাইট। মুল্লাইট কেম্ পাস্ট মিডনাইট। অ্যাট দিস পয়েন্ট অভ টাইম, ভোলা গ্র্যান্ডপা কল্ফেড্ দ্যাটু দেয়ার ওয়াজ নো রিয়েল ট্রেজ্যার। ইট ওয়াজ অল আ ড্রিম হুইচ হি হ্যাড ডিউরিং হিজ মিড ডে ন্যাপ।

ওয়ানস্ ভোলা গ্র্যান্ডপা হ্যাড্ আ গ্রেট্ অ্যাডভেন্‌চার ইন্ দ্য সুন্ডরবনস্। ইন – দ্যোজ্ ডেইজ্ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারস্ ফ্রিলি রোমড্ দ্য ডেনস্ জাঙ্গল্স অভ্ দ্য সুন্ডরবস্। পিল্ টুক্ কেয়ার টু মুন্ড অনলি ইন্ গ্রুপস্, পার্টিকুলারলি আক্টার সান্ডাউন।

ওয়ান ইভনিং, ভোলা গ্র্যান্ডপা ওয়াজ রিটার্নিং ফ্রম দ্য উইক্লি মার্কেট। সাডেনলি অ্যাট্ আ ডিস্ট্যানস্ অভ্ অ্যাবাউট ফাইভ ইয়ারস্ বিহাইন্ড হিম, হি হার্ড দ্য গ্রাউল অভ্ আ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। ভোলা গ্র্যান্ডপা টার্নড অ্যান্ড ফাউন্ড দ্য ব্রাইট্ গেইজ্ অভ্ দ্য টাইগার অন্ হিজ্ ফেস্।

ভোলা গ্র্যান্ডপা ইন্‌স্ট্যান্টলি ক্লাই আপ আ নিয়ারবাই ব্যানিয়ান্ ট্রি। দ্য টাইগার রোড্ অ্যান্ড সার্কল্ড দ্য ট্রি অ্যাবাউট আ হান্ড্রেড টাইমস্। দেন ইট্ সেটেলড্ ডাউন আন্ডার আ ব্যুশ উইদাউট টেকিং ইটস্ আইজ অফ্ হিম। উইথ নাইফল, দ্য ফরেস্ট গ্রিউ ডার্ক অ্যান্ড সাইলেন্ট। ভোলা গ্র্যান্ডপা ক্যুড্ হিয়ার দ্য টাইগার বিটিং ইটস্ টেইল্ অন দ্য ড্রাই লিভস্। আওয়ারস্ পাসড্।

ড্যন্ ব্রোক উইথ দ্য ক্যুইং অভ্ ডাস্। ভোলা গ্র্যান্ডপা কেইম ডাউন। দেয়ার ওয়্যজ আ গ্রুপ অভ্ মেন্ অন্ আ মাউনড্ আ লিটল্ অ্যাওয়ে। ভোলা গ্র্যান্ডপা ক্লাইড্ দ্য মাউন্ড অ্যান্ড রিকোয়েস্টেড্ দ্য ফার্স্ট ম্যান হি স্য ফর সাম ওয়াটার টু ড্রিংক। দ্য ম্যান্ হ্যাড্ সীন্ দ্য টাইগার ওয়েটিং। হি ওয়াজ মাচ্ বিউইলড়ারড্। “হোয়াট্ ইজ ইওর সিক্রেট দ্যাট্ ইউ সিল্লি ওয়াকড্ পাস্ট দ্য হাংরি বিস্ট অ্যান্ড ইট্ ডিড্ নাথিং?” হি আড্ ভোলা গ্র্যান্ডপা।

দ্য টাইগার ওয়াজ স্ট্রেচিং ইটস্ লিস্ অ্যান্ড ইয়নিং। দেন, ভোলা গ্র্যান্ডপা রিমেম্বারড্ দ্য টাইগার অ্যান্ড লুকড্ অ্যাট্ ইট্। ভোলা গ্র্যান্ডপা অ্যাস্ট লস্ট হিজ্ সেন্সেস্ ইন্ ফিয়ার। হি র‍্যান্ ব্যাক্ হোম।

হাফ্ আ সেঞ্চুরি লেটার ভোলা গ্র্যান্ডপা লেফ্ট আস্ ফরএভার ওয়ান মর্নিং অ্যাট দ্য এজ অভ্ নাইন্টি-ফাইভ। হিজ্ এইটি ইয়ার ওল্ড ওয়াইফ্ ল্যামেন্টেড্ মাচ। শি সেইড্ উইথ আ সাই, “দ্য ওল্ড ম্যান মাস্ট হ্যাভ্ ফরস্টেন্ টু ব্রিদ।”

Tales of Bhola Grandpa বঙ্গানুবাদ

ভোলাদাদু এবং তাঁর স্ত্রী আমাদের গ্রামের পশ্চিমপ্রান্তে বাস করতেন। একটি বড়ো বকুলগাছ তাঁদের কুঁড়েঘরকে রোদ থেকে আড়াল করত। ওই বকুল গাছে ছোটো একপাল বাঁদর বাস করত। ভোলাদাদু ও তাঁর স্ত্রী এতে কিছু মনে করতেন না।

এক জ্যোৎস্না রাতে, আমরা একটি উৎসব থেকে ফিরছিলাম। পথ ছিল দীর্ঘ এবং কুয়াশাচ্ছন্ন। আমি গ্রামের চৌকিদারের কাঁধে চেপে ফিরছিলাম। হঠাৎ, ভোলাদাদু চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। আমাদের দলের সকলেই

অবাক হয়ে গেল। আমরা দাঁড়িয়ে পড়লাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে ভোলাদাদু তাঁর নাতিকে নিয়ে উৎসবে গিয়েছিলেন। তিনি ছেলেটির দুটি আঙুল শক্ত করে ধরেছিলেন। তিনি বুঝতেই পারেননি কখন আঙুল দুটি ফস্কে গেছে। ভোলাদাদু আগের মতোই চলছিলেন। তারপর কেউ একজন ভোলাদাদুকে জিজ্ঞেস করল তিনি কী ধরে ছিলেন। তাঁর নাতির কথা মনে পড়ে গেল এবং চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন।

ভোলাদাদুর সঙ্গে উৎসবে আবার ফিরে যাওয়ার জন্য আমার বাবা আমাদের দল থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন দুজন লোককে বাছলেন। খুব বেশি সময় লাগল না, নাতিকে খুঁজে পাওয়া গেল। সে একটি গোরুর পেটের নীচে আরামদায়ক আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল।

আমার বাবার বলা ভোলাদাদুর সম্বন্ধে অন্য একটি মজার ঘটনা আমার মনে পড়ে। দিনটা ছিল বর্ষাকালের এক বিকাল। ভোলাদাদু উত্তেজনায় দিশেহারা হয়ে আমার বাবা আর তাঁর বন্ধুদের বললেন যে তিনি একদল জলদস্যু দেখেছেন। আমাদের গ্রামের পাশে সমুদ্রতীরের বালিয়াড়ির মধ্যে তারা একটি বড়ো বাক্স পুঁতে রাখছিল। তখনই আমার বাবা এবং তাঁর বন্ধুরা ওই গুপ্তধনের খোঁজে তল্লাশি শুরু করলেন। সন্ধে গড়িয়ে রাত্রি হল। মেঘেদের মধ্যে দিয়ে চাঁদের আলো আসছিল। একদল শেয়াল ডাকছিল। তখন মাঝরাত পেরিয়ে গেছে। সেই সময় ভোলাদাদু স্বীকার করলেন যে সত্যি সত্যি কোনো গুপ্তধন ওখানে ছিল না। ওই সবকিছুই আসলে ছিল তাঁর দিবানিদ্রার সময় দেখা স্বপ্নমাত্র।

একবার ভোলাদাদু সুন্দরবনে দারুণ এক রোমাঞ্চকর অভিযান করেছিলেন। তখনকার দিনে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে রয়‍্যাল বেঙ্গল বাঘ অবাধে ঘুরে বেড়াতো। লোকজন দলবেঁধে সতর্ক হয়ে যাতায়াত করত, বিশেষ করে সূর্যাস্তের পরে।

একদিন সন্ধ্যাবেলা, ভোলাদাদু সাপ্তাহিক হাট থেকে ফিরছিলেন। হঠাৎ তাঁর পিছনে, বড়ো জোর পাঁচ গজ দূরে, তিনি শুনতে পেলেন রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের গর্জন। ভোলাদাদু ঘুরে তাকালেন, এবং তাঁর মুখের উপরে বাঘের জ্বলজ্বলে দৃষ্টি দেখতে পেলেন।

ভোেলাদাদ সঙ্গে সঙ্গে কাছের একটা বটগাছে উঠে পড়লেন। বাঘটি গর্জন করতে লাগল এবং অন্তত একশোবার গাছের চারদিকে পাক খেল।

-তারপরে একটি ঝোপের নীচে বাঘটি বসে পড়ল, কিন্তু দাদুর দিক থেকে চোখ সরালো না। রাত্রি নেমে এল, জঙ্গল অন্ধকার ও নিঃস্তব্ধ হয়ে গেল। ভোলাদাদু শুনতে পেলেন শুকনো পাতার উপর বাঘটি লেজ ঝাপটা দিচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল।

ঘুঘুপাখির কূজনে ভোর হল। ভোলাদাদু (গাছ থেকে) নেমে এলেন। একটু দূরে একটি উঁচু ঢিবির উপর একদল লোক দাঁড়িয়ে ছিল। ভোলাদাদু ওই চিবির ওপর উঠলেন এবং যে লোকটিকে প্রথম দেখতে পেলেন তাকেই একটু খাবার জল দিতে বললেন। লোকটি দেখেছিল যে বাঘটি অপেক্ষা করে আছে। সে হতবাক হয়ে ভোলাদাদুকে জিজ্ঞেস করল, “তোমার মধ্যে কী এমন রহস্য আছে যে ওই ক্ষুধার্ত জন্তুটির পাশ দিয়ে তুমি স্বচ্ছন্দে হেঁটে চলে এলে অথচ ও তোমার কিছুই করল না?”

বাঘটি হাত-পা ছড়াচ্ছিল এবং হাই তুলছিল। তখন ভোলাদাদুর বাঘের কথা মনে পড়ল এবং সেটির দিকে তাকালেন। ভয়ে ভোলাদাদুর মূর্ছা যাবার জোগাড়। তিনি দৌড়ে বাড়ি চলে গেলেন।

অর্ধশতাব্দী পরে একদিন সকালে পঁচানব্বই বছর বয়সে ভোলাদাদু আমাদের ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেলেন। তাঁর আশি বছরের বৃদ্ধা স্ত্রী প্রচুর কান্নাকাটি করলেন। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “বুড়ো মানুষটা নিশ্চই শ্বাস নিতে ভুলে গিয়েছিল।”

Leave a Comment