WBBSE Class 8 History Chapter 3 Question and Answers

WBBSE Class 8 History Chapter 3 ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা Question Answers

WBBSE Class 8 History Chapter 3 ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা অধ্যায়ের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে খুব সহজে বিষয়গুলি বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে, সেইভাবে MCQ, SAQ ও বড়ো প্রশ্নের উত্তর সাজানো হয়েছে। পরীক্ষার আগে এই প্রশ্নোত্তরগুলি ভালোভাবে অনুশীলন করলে অধ্যায়টি প্রস্তুত করতে সুবিধা হবে।

WBBSE Class 8 History Chapter 2 – MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (৩০টি)

১. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান তিনটি প্রেসিডেন্সি কোনগুলি ছিল?

ক) কলকাতা, দিল্লি ও মাদ্রাজ
খ) মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতা
গ) সুরাট, কলকাতা ও বোম্বাই
ঘ) কলকাতা, লাহোর ও করাচি

সঠিক উত্তর: খ) মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতা

ব্যাখ্যা: ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও বাণিজ্য পরিচালনার জন্য তিনটি প্রধান প্রেসিডেন্সি গড়ে উঠেছিল। এগুলি হল মাদ্রাজ, বোম্বাই ও বাংলা বা কলকাতা প্রেসিডেন্সি। পরবর্তীকালে এই কেন্দ্রগুলি ব্রিটিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

২. রেগুলেটিং অ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?

ক) ১৭৬৫
খ) ১৭৭৩
গ) ১৭৮৪
ঘ) ১৭৯৩

সঠিক উত্তর: খ) ১৭৭৩

ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজকর্মের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়। বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করার ব্যবস্থাও এই আইনে করা হয়।

৩. রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
খ) রবার্ট ক্লাইভ
গ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি

সঠিক উত্তর: গ) ওয়ারেন হেস্টিংস

ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের পর ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল হন। তাঁর সময়ে কোম্পানির প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও সংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

৪. পিটের ভারত শাসন আইন কত সালে পাস হয়েছিল?

ক) ১৭৭৩
খ) ১৭৮১
গ) ১৭৮৪
ঘ) ১৭৯৩

সঠিক উত্তর: গ) ১৭৮৪

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়ম পিটের উদ্যোগে ১৭৮৪ সালে পিটের ভারত শাসন আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানির শাসনকার্যের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ে। আইন অনুসারে বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠন করা হয়।

৫. ওয়ারেন হেস্টিংস কত সালে বাংলার দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান?

ক) ১৭৬৫
খ) ১৭৭০
গ) ১৭৭২
ঘ) ১৭৮৪

সঠিক উত্তর: গ) ১৭৭২

ব্যাখ্যা: ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর বাংলায় দ্বৈত শাসন চালু হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ছিল কোম্পানির হাতে, আর প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল নবাবের। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস এই ব্যবস্থার অবসান ঘটান এবং কোম্পানির সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

৬. বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে এবং কত সালে চালু করেন?

ক) ওয়ারেন হেস্টিংস, ১৭৭২
খ) লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৮৪
গ) লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৯৩
ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি, ১৮১৩

সঠিক উত্তর: গ) লর্ড কর্নওয়ালিস, ১৭৯৩

ব্যাখ্যা: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় জমিদারদের কাছ থেকে সরকারকে কত রাজস্ব দিতে হবে, তা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা হয়। জমিদারদের নির্দিষ্ট রাজস্ব দেওয়ার বিনিময়ে জমির ওপর অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

৭. কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৭৮১ সালে
খ) ১৮১৭ সালে
গ) ১৮২৪ সালে
ঘ) ১৮৩০ সালে

সঠিক উত্তর: গ) ১৮২৪ সালে

ব্যাখ্যা: ১৮২৪ সালে কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে এইচ. এইচ. উইলসনের নাম যুক্ত। এখানে সংস্কৃত ভাষা ও প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

৮. হিন্দু কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন?

ক) ১৮১৭ সালে; স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট, ডেভিড হেয়ার ও রাজা রামমোহন রায়
খ) ১৮২৪ সালে; উইলিয়ম কেরি
গ) ১৭৯১ সালে; জোনাথন ডানকান
ঘ) ১৮৩০ সালে; আলেকজান্ডার ডাফ

সঠিক উত্তর: ক) ১৮১৭ সালে; স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট, ডেভিড হেয়ার ও রাজা রামমোহন রায়

ব্যাখ্যা: ১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট ও ডেভিড হেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। রাজা রামমোহন রায়ও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এখানে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

৯. মেকলে মিনিট কত সালে পেশ করা হয়?

ক) ১৮১৩
খ) ১৮৩৫
গ) ১৮৪৩
ঘ) ১৮৫৪

সঠিক উত্তর: খ) ১৮৩৫

ব্যাখ্যা: ১৮৩৫ সালে টমাস ব্যাবিংটন মেকলে তাঁর বিখ্যাত শিক্ষাবিষয়ক প্রস্তাব পেশ করেন, যা মেকলে মিনিট নামে পরিচিত। তিনি ভারতে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করার পক্ষে মত দেন। এর ফলে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে সরকারি উদ্যোগ বাড়ে।

১০. উডের ডেসপ্যাচ কত সালে প্রকাশিত হয়?

ক) ১৮১৩
খ) ১৮৩৫
গ) ১৮৫৪
ঘ) ১৮৭০

সঠিক উত্তর: গ) ১৮৫৪

ব্যাখ্যা: ১৮৫৪ সালে স্যার চার্লস উডের নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত। এতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভারতীয় শিক্ষার ইতিহাসে এই প্রতিবেদনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

১১. বেথুন স্কুল কে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) ডেভিড হেয়ার
খ) জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন
গ) আলেকজান্ডার ডাফ
ঘ) উইলিয়ম জোনস

সঠিক উত্তর: খ) জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন

ব্যাখ্যা: ১৮৪৯ সালে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন কলকাতায় মেয়েদের শিক্ষার জন্য একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বেথুন স্কুল নামে পরিচিত হয়। নারীশিক্ষার প্রসারে এই বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১২. জেমস রেনেল কে ছিলেন?

ক) ভারতের গভর্নর জেনারেল
খ) ভারতের সার্ভেয়র জেনারেল
গ) কলকাতার প্রধান বিচারপতি
ঘ) একজন শিক্ষাবিদ

সঠিক উত্তর: খ) ভারতের সার্ভেয়র জেনারেল

ব্যাখ্যা: জেমস রেনেল ছিলেন একজন বিখ্যাত জরিপবিদ। তাঁকে ১৭৬৭ সালে বাংলার জরিপ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ভারতীয় ভূখণ্ডের মানচিত্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর তৈরি মানচিত্রগুলি পরবর্তীকালে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক কাজে ব্যবহৃত হয়।

১৩. ইজারাদারি বন্দোবস্ত বলতে কী বোঝায়?

ক) স্থায়ীভাবে জমিদারি দেওয়ার ব্যবস্থা
খ) নিলামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেওয়া
গ) কৃষকদের সরাসরি রাজস্ব দেওয়ার ব্যবস্থা
ঘ) গ্রামের সমষ্টিগত রাজস্ব ব্যবস্থা

সঠিক উত্তর: খ) নিলামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাজস্ব আদায়ের অধিকার দেওয়া

ব্যাখ্যা: ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ইজারাদারি বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমি বা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো। পাঁচ বছরের জন্য বন্দোবস্ত করা হতো বলে একে পাঁচসালা বন্দোবস্তও বলা হয়।

১৪. কোম্পানির সিপাহি বাহিনীতে প্রথমদিকে কোন শ্রেণির মানুষ বেশি নিয়োগ পেতেন?

ক) নিম্নবর্ণের কৃষক
খ) উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুত কৃষক
গ) পাহাড়ি উপজাতির মানুষ
ঘ) ইউরোপীয় সৈন্য

সঠিক উত্তর: খ) উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুত কৃষক

ব্যাখ্যা: কোম্পানির প্রাথমিক সিপাহি বাহিনীতে উত্তর ভারতের উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুত কৃষকদের অনেককে নিয়োগ করা হতো। তাঁদের সামাজিক পরিচয় ও খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়গুলিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হতো। পরে কোম্পানির সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ধরন পরিবর্তিত হয়।

১৫. বোর্ড অফ কন্ট্রোল কত সালে গঠিত হয়?

ক) ১৭৭৩
খ) ১৭৮৪
গ) ১৭৯৩
ঘ) ১৮১৩

সঠিক উত্তর: খ) ১৭৮৪

ব্যাখ্যা: ১৭৮৪ সালের পিটের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠিত হয়। ভারতে কোম্পানির শাসন ও প্রশাসনের ওপর ব্রিটিশ সরকারের নজরদারি বাড়ানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে কোম্পানির রাজনৈতিক কার্যকলাপে ব্রিটিশ সরকারের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৬. লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচারব্যবস্থার সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

ক) ভারতীয় বিচারকদের সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ
খ) রাজস্ব ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব পৃথক করা
গ) মোগল আমলের বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা
ঘ) শুধু পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিচার চালু করা

সঠিক উত্তর: খ) রাজস্ব ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব পৃথক করা

ব্যাখ্যা: লর্ড কর্নওয়ালিস বিচারব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনেন। রাজস্ব আদায় ও বিচারকার্যের দায়িত্ব আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতগুলিকে বিভিন্ন স্তরে সাজানো হয় এবং আইনকানুনকে নির্দিষ্টভাবে সংকলন করার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর সময়ে কর্নওয়ালিস কোড প্রবর্তিত হয়।

১৭. কলকাতা মাদ্রাসা কত সালে এবং কার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ক) ১৭৮১ সালে, ওয়ারেন হেস্টিংস
খ) ১৭৯১ সালে, জোনাথন ডানকান
গ) ১৮১৭ সালে, ডেভিড হেয়ার
ঘ) ১৮২৪ সালে, এইচ. এইচ. উইলসন

সঠিক উত্তর: ক) ১৭৮১ সালে, ওয়ারেন হেস্টিংস

ব্যাখ্যা: ১৭৮১ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে আরবি ও ফারসি ভাষা এবং ইসলামি আইনশাস্ত্রের চর্চার ব্যবস্থা ছিল। প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থার কাজে এই ধরনের শিক্ষার প্রয়োজন ছিল।

১৮. বেনারস হিন্দু কলেজ কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) ওয়ারেন হেস্টিংস, ১৭৮১
খ) জোনাথন ডানকান, ১৭৯১
গ) উইলিয়ম জোনস, ১৭৮৪
ঘ) ডেভিড হেয়ার, ১৮১৭

সঠিক উত্তর: খ) জোনাথন ডানকান, ১৭৯১

ব্যাখ্যা: ১৭৯১ সালে জোনাথন ডানকান বারাণসীতে বেনারস হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে সংস্কৃত ভাষা ও হিন্দু আইনশাস্ত্রের শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রশাসনিক ও বিচারসংক্রান্ত কাজে শিক্ষিত ব্যক্তিদের তৈরি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

১৯. এশিয়াটিক সোসাইটি কে এবং কত সালে প্রতিষ্ঠা করেন?

ক) ওয়ারেন হেস্টিংস, ১৭৭২
খ) উইলিয়ম জোনস, ১৭৮৪
গ) জোনাথন ডানকান, ১৭৯১
ঘ) জেমস মিল, ১৮১৭

সঠিক উত্তর: খ) উইলিয়ম জোনস, ১৭৮৪

ব্যাখ্যা: ১৭৮৪ সালে স্যার উইলিয়ম জোনস কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এশিয়ার ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০. ১৮৫০-এর দশকে কোম্পানির সেনাবাহিনীতে প্রায় কতজন ভারতীয় সিপাহি ছিল?

ক) ৫০,০০০
খ) ১,০০,০০০
গ) ২,৫০,০০০
ঘ) ৫,০০,০০০

সঠিক উত্তর: গ) ২,৫০,০০০

ব্যাখ্যা: ১৮৫০-এর দশকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীতে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় সিপাহি কর্মরত ছিলেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। কোম্পানির সামরিক শক্তি বজায় রাখতে এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২১. ‘সামরিক জাতি’ বা Martial Race বলতে কী বোঝায়?

ক) যুদ্ধে অংশ নিতে অক্ষম জাতিগোষ্ঠী
খ) কিছু জাতিগোষ্ঠীকে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ধারণা
গ) ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ শাখা
ঘ) নৌবাহিনীর একটি বিশেষ দল

সঠিক উত্তর: খ) কিছু জাতিগোষ্ঠীকে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ধারণা

ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসকেরা কিছু জাতিগোষ্ঠীকে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত বলে মনে করতেন। এই ধারণা ‘সামরিক জাতি’ নামে পরিচিত হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর শিখ ও গুর্খাদের মতো কয়েকটি গোষ্ঠী থেকে সেনা নিয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২২. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন প্রশাসনিক কেন্দ্র কোথায় ছিল?

ক) মাদ্রাজ ও বোম্বাই
খ) গ্রীষ্মে উটাকামুন্ড এবং শীতে মাদ্রাজ
গ) কলকাতা ও সুরাট
ঘ) পাটনা ও মাদ্রাজ

সঠিক উত্তর: খ) গ্রীষ্মে উটাকামুন্ড এবং শীতে মাদ্রাজ

ব্যাখ্যা: মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক কাজের জন্য গ্রীষ্মকালে উটাকামুন্ড এবং শীতকালে মাদ্রাজ ব্যবহৃত হতো। উটাকামুন্ড বর্তমানে উটি নামে পরিচিত। এটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় গরমের সময় প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো।

২৩. বোম্বাই প্রেসিডেন্সির প্রাথমিক বাণিজ্যকেন্দ্র কোনটি ছিল?

ক) কলকাতা
খ) সুরাট
গ) কোচিন
ঘ) মাদ্রাজ

সঠিক উত্তর: খ) সুরাট

ব্যাখ্যা: পশ্চিম ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল সুরাট। এই কেন্দ্রকে ঘিরেই পরবর্তীকালে বোম্বাই প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।

২৪. রাজা রামমোহন রায় কেন সংস্কৃত শিক্ষার পরিবর্তে পাশ্চাত্য শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন?

ক) সংস্কৃত ভাষা তাঁর পছন্দ ছিল না
খ) আধুনিক বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য জ্ঞান দেশের উন্নতিতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করতেন
গ) তিনি শুধু ফারসি শিক্ষার পক্ষে ছিলেন
ঘ) তিনি আরবি শিক্ষাকে একমাত্র প্রয়োজনীয় মনে করতেন

সঠিক উত্তর: খ) আধুনিক বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য জ্ঞান দেশের উন্নতিতে সাহায্য করবে বলে তিনি মনে করতেন

ব্যাখ্যা: রাজা রামমোহন রায় আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত ও দর্শনের মতো বিষয়ের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ১৮২৩ সালে তিনি লর্ড আমহার্স্টকে লেখা চিঠিতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষা ভারতীয়দের জ্ঞান ও চিন্তাভাবনার উন্নতিতে সাহায্য করবে।

২৫. ইজারাদারি বন্দোবস্তের একটি বড়ো সমস্যা কী ছিল?

ক) অনেক ইজারাদার গ্রামের বাইরের লোক ছিলেন এবং তাঁদের ওপর বেশি রাজস্বের দায় চাপানো হতো
খ) কৃষকদের কোনো জমি ছিল না
গ) বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল
ঘ) সব জমিতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল

সঠিক উত্তর: ক) অনেক ইজারাদার গ্রামের বাইরের লোক ছিলেন এবং তাঁদের ওপর বেশি রাজস্বের দায় চাপানো হতো

ব্যাখ্যা: ইজারাদারি বন্দোবস্তে অনেক সময় গ্রামের বাইরের লোকেরা জমি বা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেতেন। তাঁদের পক্ষে এলাকার কৃষি ও উৎপাদন সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা কঠিন ছিল। আবার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় অনেক ইজারাদার নির্ধারিত অর্থ দিতে ব্যর্থ হতেন।

২৬. ‘A Grammar of the Bengal Language’ বইটি কে রচনা করেন?

ক) উইলিয়ম জোনস
খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
গ) উইলিয়ম কেরি
ঘ) জোনাথন ডানকান

সঠিক উত্তর: খ) নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড

ব্যাখ্যা: নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ সালে ‘A Grammar of the Bengal Language’ নামে বাংলা ব্যাকরণের একটি বই রচনা করেন। বাংলা ভাষার ব্যাকরণচর্চার ইতিহাসে বইটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হুগলিতে এই বই ছাপা হয়েছিল।

২৭. সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ও এখতিয়ার নির্দিষ্ট করা হয় কত সালে?

ক) ১৭৭৩
খ) ১৭৮১
গ) ১৭৮৪
ঘ) ১৭৯৩

সঠিক উত্তর: খ) ১৭৮১

ব্যাখ্যা: ১৭৮১ সালের সংশোধনী আইনের মাধ্যমে কলকাতার সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ও কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়। রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত কিছু বিষয় আদালতের এখতিয়ারের বাইরে রাখা হয়। এর ফলে কোম্পানির প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ সীমিত হয়।

২৮. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির সূচনার সঙ্গে কোন দুর্গের নাম যুক্ত?

ক) ফোর্ট উইলিয়ম
খ) সেন্ট জর্জ দুর্গ
গ) ফোর্ট সেন্ট ডেভিড
ঘ) লালকেল্লা

সঠিক উত্তর: খ) সেন্ট জর্জ দুর্গ

ব্যাখ্যা: ১৬৩৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাদ্রাজে সেন্ট জর্জ দুর্গ নির্মাণ করে। এই দুর্গকে কেন্দ্র করেই মাদ্রাজে কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপ বিস্তার লাভ করে। পরবর্তীকালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির বিকাশে এই দুর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২৯. রেগুলেটিং অ্যাক্টের ফলে কলকাতার প্রশাসনিক গুরুত্ব কীভাবে বৃদ্ধি পায়?

ক) কলকাতার গুরুত্ব কমে যায়
খ) কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে
গ) কলকাতা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়
ঘ) কলকাতার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়

সঠিক উত্তর: খ) কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে

ব্যাখ্যা: ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল করা হয়। কলকাতা ছিল বাংলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। ফলে ব্রিটিশ কোম্পানির প্রশাসনে কলকাতার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।

৩০. ১৮১৩ সালের আগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে কী ধরনের ভূমিকা পালন করত?

ক) শুধু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করত
খ) বাণিজ্যের পাশাপাশি শাসনকার্যও পরিচালনা করত
গ) ভারতীয় রাজ্যগুলির অধীনে কাজ করত
ঘ) ভারতে তাদের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা ছিল না

সঠিক উত্তর: খ) বাণিজ্যের পাশাপাশি শাসনকার্যও পরিচালনা করত

ব্যাখ্যা: পলাশির যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্যের পাশাপাশি শাসনকার্যও পরিচালনা করতে শুরু করে। ১৮১৩ সালের চার্টার আইন কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকারে পরিবর্তন আনে। তবে ভারতে কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা তখনও বজায় ছিল।

WBBSE Class 8 History Chapter 2

SAQ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (২২টি)

১. ভারতে ব্রিটিশ প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে ওঠে? তিনটি প্রেসিডেন্সির নাম লেখো।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে ভারতে ব্যবসা করার জন্য এসেছিল। ব্যবসার সুবিধার জন্য তারা মাদ্রাজ, বোম্বাই ও কলকাতায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে। পরে এই কেন্দ্রগুলিকে ঘিরেই তিনটি প্রেসিডেন্সি গড়ে ওঠে। এগুলি হলো— মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি, বোম্বাই প্রেসিডেন্সি এবং বাংলা প্রেসিডেন্সি। প্রতিটি প্রেসিডেন্সি একজন গভর্নর ও তাঁর কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরে ব্রিটিশ শাসন বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রেসিডেন্সিগুলির প্রশাসনিক গুরুত্বও বাড়তে থাকে।

২. রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩) কী? এর গুরুত্ব কী ছিল?

১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোম্পানির শাসনব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল। তাঁর সঙ্গে কাজ করার জন্য চারজন সদস্য নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের গভর্নরদেরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলার গভর্নর জেনারেলের অধীনে আনা হয়। এই আইনের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসন গড়ে ওঠার পথ তৈরি হয়।

৩. পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪) সম্পর্কে কী জানো?

১৭৮৪ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়ম পিটের উদ্যোগে পিটের ভারত শাসন আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানির শাসন পরিচালনার উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়। কোম্পানির কাজকর্ম তদারক করার জন্য একটি বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠন করা হয়। এই বোর্ড কোম্পানির রাজনৈতিক, সামরিক ও রাজস্ব সংক্রান্ত কাজের উপর নজর রাখত। অন্যদিকে, কোম্পানির পরিচালকরা মূলত বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজ দেখতেন। এই আইনের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনব্যবস্থায় ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়।

৪. ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচারব্যবস্থার সংস্কার সম্পর্কে কী জানো?

ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটিয়ে কোম্পানির সরাসরি শাসন চালু করেন। তিনি বিচারব্যবস্থার উন্নতির জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নেন। প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত গড়ে তোলা হয়। দেওয়ানি আদালতে জমি, সম্পত্তি ও অন্যান্য দেওয়ানি মামলার বিচার হতো। ফৌজদারি আদালতে অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হতো। দেশীয় আইন বুঝতে আদালতে হিন্দু পণ্ডিত ও মুসলিম আইনজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হতো। ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে।

৫. লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচার সংস্কারের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। তাঁর এই সংস্কারগুলি কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত। তিনি রাজস্ব আদায়ের কাজ থেকে বিচারব্যবস্থাকে আলাদা করেন। জেলা কালেক্টরের প্রধান কাজ হয় রাজস্ব আদায় করা এবং বিচারকার্যের জন্য পৃথক আদালতের ব্যবস্থা করা হয়। জেলা থেকে শুরু করে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত আদালত গড়ে তোলা হয়। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগও রাখা হয়। তবে উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে ইউরোপীয়দেরই নিয়োগ করা হতো। ফলে বিচারব্যবস্থায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।

৬. ঔপনিবেশিক পুলিশ ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে ওঠে?

ব্রিটিশ শাসনকে শক্তিশালী করতে লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে পুলিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। তিনি জেলায় জেলায় থানা গড়ে তোলেন এবং প্রতিটি থানার দায়িত্বে একজন করে দারোগা নিযুক্ত করেন। দারোগাদের কাজের উপর নজর রাখতেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার নিজেদের শাসন ও রাজস্ব আদায়ের স্বার্থেও পুলিশকে ব্যবহার করত। পরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আনা হয়।

৭. কোম্পানির সেনাবাহিনী বা সিপাহি বাহিনী সম্পর্কে কী জানো?

ভারতে নিজেদের শাসন ও ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি বিশাল সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। এই বাহিনীর ভারতীয় সৈন্যদের সিপাহি বলা হতো। প্রথমদিকে বাংলার সেনাবাহিনীতে উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুতদের নিয়োগ করা হতো। পরে মারাঠা, গুর্খা এবং অন্যান্য অঞ্চলের মানুষও সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নীতি বদলে ফেলে। তারা পাঞ্জাবের শিখ, নেপালের গুর্খা ও রাজপুতদের মতো কয়েকটি গোষ্ঠীকে তথাকথিত ‘সামরিক জাতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেনাবাহিনীতে বেশি নিয়োগ করতে থাকে।

৮. পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারে মেকলে মিনিটের ভূমিকা কী ছিল?

১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে তাঁর বিখ্যাত শিক্ষাসংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করেন। এটি মেকলে মিনিট নামে পরিচিত। তিনি ভারতে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু করার পক্ষে মত দেন। তাঁর মতে, ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটানো সম্ভব। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকার ইংরেজি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এর ফলে ভারতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বাড়ে। তবে এই নীতির কারণে দেশীয় ভাষা ও প্রাচীন শিক্ষার গুরুত্ব অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।

৯. উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪) কী? এর গুরুত্ব লেখো।

১৮৫৪ সালে স্যার চার্লস উডের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার ভারতে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব প্রকাশ করে। এটি উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত। এতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরে দেশীয় ভাষা এবং উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই উডের ডেসপ্যাচকে ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বলা হয়।

১০. ভারতে নারীশিক্ষা বিস্তারের প্রথম পদক্ষেপ কী ছিল?

প্রথমদিকে ব্রিটিশ সরকার নারীশিক্ষার প্রসারে তেমন উদ্যোগ নেয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নারীশিক্ষার বিস্তার শুরু হয়। এই কাজে জন এলিয়ট ড্রিঙ্কওয়াটার বেথুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর উদ্যোগে ১৮৪৯ সালে কলকাতায় বেথুন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেন। এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলায় মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়টি বেথুন কলেজে উন্নীত হয়।

১১. রাজা রামমোহন রায় কেন সংস্কৃত শিক্ষার পরিবর্তে পাশ্চাত্য শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছিলেন?

রাজা রামমোহন রায় আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থক ছিলেন। ১৮২৩ সালে তিনি গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্টকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি সংস্কৃত শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে গণিত, বিজ্ঞান, দর্শন ও অন্যান্য আধুনিক বিষয়ের শিক্ষার প্রসারের পক্ষে মত দেন। তাঁর ধারণা ছিল, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা ভারতীয়দের উন্নতিতে সাহায্য করবে। তাই তিনি ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের উপর গুরুত্ব দেন।

১২. এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

স্যার উইলিয়ম জোনস ১৭৮৪ সালে কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় ইতিহাস, সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গবেষণা করা। বিশেষ করে প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থগুলিকে অনুবাদ ও সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় পণ্ডিতদের কাছে ভারতীয় জ্ঞান ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এশিয়াটিক সোসাইটির কাজের ফলে ভারতীয় প্রাচীন সাহিত্য ও ইতিহাস নিয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়ে।

১৩. জেমস রেনেল ও জমি জরিপের ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো।

জেমস রেনেল ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন গুরুত্বপূর্ণ জরিপবিদ। তাঁকে ১৭৬৭ সালে বাংলার সার্ভেয়র জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি বাংলার নদী, ভূমি ও বিভিন্ন অঞ্চলের জরিপ করে মানচিত্র তৈরি করেন। তাঁর তৈরি মানচিত্রগুলি কোম্পানির প্রশাসনিক কাজ এবং ভূমি-রাজস্ব নির্ধারণে সাহায্য করেছিল। ভারতের ভূগোল সম্পর্কে ব্রিটিশদের জ্ঞান বাড়াতেও তাঁর জরিপের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৪. ইজারাদারি বন্দোবস্ত কী এবং কেন তা ব্যর্থ হয়েছিল?

১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় ইজারাদারি বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় নিলামের মাধ্যমে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন, তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমির রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো। প্রথমদিকে এই বন্দোবস্ত পাঁচ বছরের জন্য করা হয়েছিল বলে একে পাঁচসালা বন্দোবস্তও বলা হয়। কিন্তু অনেক ইজারাদার বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা আদায় করতে পারেননি। ফলে তাঁরা রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হন। কৃষকদের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই কারণে ইজারাদারি বন্দোবস্ত সফল হয়নি।

১৫. ওয়ারেন হেস্টিংসের শিক্ষা ও ভাষাচর্চায় ভূমিকা কী ছিল?

ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতীয় ভাষা ও আইন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর উদ্যোগে হিন্দু ও মুসলিম আইন অনুবাদের কাজ শুরু হয়। নাথানিয়েল হ্যালহেডের সম্পাদনায় ১৭৭৬ সালে হিন্দু আইনসংক্রান্ত একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৭৭৮ সালে হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণও প্রকাশিত হয়, যা বাংলা ভাষার মুদ্রিত ব্যাকরণচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এছাড়া ১৭৮১ সালে হেস্টিংস কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে আরবি ও ফারসি শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়।

১৬. লর্ড কর্নওয়ালিসের পুলিশ ব্যবস্থা সংস্কার কেন করা হয়?

লর্ড কর্নওয়ালিস মনে করতেন, ব্রিটিশ শাসন বজায় রাখতে একটি সংগঠিত পুলিশ ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই ১৭৯৩ সালে তিনি পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কার করেন। জেলায় জেলায় থানা গড়ে তোলা হয় এবং প্রতিটি থানায় একজন দারোগা নিযুক্ত করা হয়। দারোগাদের কাজের উপর নজর রাখতেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোম্পানির শাসনকে শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেও পুলিশকে ব্যবহার করা হতো।

১৭. সামরিক জাতি তত্ত্ব কী এবং কেন চালু হয়েছিল?

সামরিক জাতি তত্ত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসকদের তৈরি একটি ধারণা। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগের নীতি পরিবর্তন করে। তারা কিছু গোষ্ঠীকে স্বভাবতই যুদ্ধদক্ষ ও অনুগত বলে মনে করত। পাঞ্জাবের শিখ, নেপালের গুর্খা ও রাজপুতদের এই তথাকথিত সামরিক জাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীতে এই গোষ্ঠীগুলির লোকদের বেশি নিয়োগ করা হতে থাকে। এর ফলে ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজনও বাড়ে।

১৮. কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?

ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তখন প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় আরবি ও ফারসি ভাষার ব্যবহার ছিল। তাই এই ভাষাগুলিতে শিক্ষিত কর্মী তৈরি করার প্রয়োজন ছিল। কলকাতা মাদ্রাসায় মুসলিম ছাত্রদের আরবি, ফারসি ও আইনশাস্ত্র শেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এর ফলে কোম্পানির প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার কাজে শিক্ষিত কর্মী পাওয়া সহজ হয়।

১৯. হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার পটভূমি কী ছিল?

১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পিছনে কলকাতার কয়েকজন শিক্ষিত ও ধনী ভারতীয়ের উদ্যোগ ছিল। স্যার এডওয়ার্ড হাইড ইস্ট এবং ডেভিড হেয়ার এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় ছাত্রদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষা দেওয়া। হিন্দু কলেজের মাধ্যমে কলকাতায় ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের সুযোগ বাড়ে। পরবর্তীকালে এই কলেজ বাংলার নবজাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

২০. মিশনারিদের শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা কী ছিল?

ভারতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁরা বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করেন। আলেকজান্ডার ডাফ ১৮৩০ সালে কলকাতায় জেনারেল অ্যাসেম্বলি’স ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করেন। মিশনারিরা ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার জন্যও উদ্যোগ নেন। উইলিয়ম কেরি বাংলা ভাষা ও ছাপাখানার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠিত ছাপাখানা থেকে বিভিন্ন ভাষায় বই ও পাঠ্যপুস্তক প্রকাশিত হয়। তবে তাঁদের শিক্ষাবিস্তারের কাজের সঙ্গে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যও যুক্ত ছিল।

২১. ঔপনিবেশিক বিচারব্যবস্থা ভারতীয়দের জন্য কী কী সমস্যা তৈরি করেছিল?

ব্রিটিশ আমলে বিচারব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আনা হলেও সাধারণ ভারতীয়দের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হতো। আদালতের ভাষা ও আইনি পদ্ধতি অনেকের কাছে কঠিন ছিল। মামলা চালাতে সময় ও অর্থ— দুটোই বেশি লাগত। গুরুত্বপূর্ণ বিচারকের পদে ইউরোপীয়দের প্রাধান্য থাকায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল। নতুন আইন ও আদালতের নিয়ম বুঝতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতো। ফলে অনেক সময় বিচার পাওয়া সাধারণ মানুষের কাছে কঠিন হয়ে উঠত।

২২. প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থায় কাউন্সিল ও গভর্নরের ভূমিকা কী ছিল?

ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ, বোম্বাই ও বাংলা— এই তিনটি প্রেসিডেন্সি একজন গভর্নর ও তাঁর কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। গভর্নর ও কাউন্সিল বাণিজ্য, রাজস্ব, বিচার এবং প্রশাসনিক কাজ দেখাশোনা করতেন। তাঁরা কোম্পানির লন্ডনের পরিচালকগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের পর বাংলার গভর্নর গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত হন। এরপর মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের গভর্নরদের উপর বাংলার গভর্নর জেনারেলের কর্তৃত্ব বাড়ে। ১৭৮৪ সালের পিটের ভারত শাসন আইন এই নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করে।

WBBSE Class 8 History Chapter 2

Broad Questions – বড়ো প্রশ্নোত্তর (৮টি)

১. রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩) ও পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪)-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কীভাবে ভারতের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল?

রেগুলেটিং অ্যাক্ট (১৭৭৩):

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে নিজেদের শাসন বিস্তার করতে থাকলে কোম্পানির কাজকর্মের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই উদ্দেশ্যে ১৭৭৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানির শাসনের উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়।

এই আইনের প্রধান বিষয়গুলি ছিল—

১. গভর্নর জেনারেল পদ তৈরি: বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল।

২. কাউন্সিল গঠন: গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চারজন সদস্য নিয়ে একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই কাউন্সিলের মাধ্যমে নেওয়া হতো।

৩. মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ করে যুদ্ধ ও শান্তি সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের গভর্নরদের বাংলার গভর্নর জেনারেলের অধীনে আনা হয়।

৪. সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা: কলকাতায় একটি সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়। ১৭৭৪ সালে এই আদালত কাজ শুরু করে।

পিটের ভারত শাসন আইন (১৭৮৪):

রেগুলেটিং অ্যাক্টের কিছু দুর্বলতা দূর করার জন্য ১৭৮৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পিটের ভারত শাসন আইন পাস করে। এই আইনের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়ে যায়।

এই আইনের প্রধান বিষয়গুলি ছিল—

১. বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠন: কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজের উপর নজর রাখার জন্য বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠন করা হয়।

২. কোম্পানির কাজের উপর নজরদারি: ভারতের শাসন, সামরিক বিষয় ও রাজস্ব সংক্রান্ত কাজের উপর ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়।

৩. কোম্পানির পরিচালকদের ভূমিকা: কোম্পানির পরিচালকরা বাণিজ্য সংক্রান্ত কাজ দেখতেন। অন্যদিকে, ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রভাব বাড়ে।

গুরুত্ব:

রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে ভারতের কোম্পানি শাসনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি তৈরি হয়। পরে পিটের ভারত শাসন আইন সেই নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করে। এই দুটি আইনের ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শাসন চালালেও ব্রিটিশ সরকারের প্রভাব ক্রমশ বেড়ে যায়।


২. ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচারব্যবস্থার সংস্কারের তুলনামূলক আলোচনা করো। এই সংস্কারগুলি ভারতীয়দের উপর কী প্রভাব ফেলেছিল?

ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর ভারতে বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন করা হয়। এই কাজে ওয়ারেন হেস্টিংস ও লর্ড কর্নওয়ালিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে তাঁদের সংস্কারের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য ছিল।

ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচার সংস্কার:

১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় কোম্পানির সরাসরি শাসন চালু করার পর বিচারব্যবস্থায় কয়েকটি পরিবর্তন আনেন।

১. প্রতিটি জেলায় একটি করে দেওয়ানি আদালত ও ফৌজদারি আদালত গড়ে তোলা হয়।

২. দেওয়ানি আদালতে জমি, সম্পত্তি ও অন্যান্য দেওয়ানি মামলার বিচার করা হতো। ফৌজদারি আদালতে অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার হতো।

৩. হিন্দু ও মুসলিম আইন বুঝতে আদালতে পণ্ডিত ও মৌলবীদের সাহায্য নেওয়া হতো।

৪. ১৭৭৪ সালে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। স্যার এলিজা ইম্পে ছিলেন এর প্রথম প্রধান বিচারপতি।

তবে কোম্পানির আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের মধ্যে কোন আদালতের কতটা ক্ষমতা থাকবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

লর্ড কর্নওয়ালিসের বিচার সংস্কার:

লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। তাঁর তৈরি আইন ও নিয়মগুলি কর্নওয়ালিস কোড নামে পরিচিত।

১. তিনি রাজস্ব আদায়ের কাজ ও বিচারব্যবস্থাকে আলাদা করেন। জেলা কালেক্টরের প্রধান দায়িত্ব হয় রাজস্ব আদায় করা।

২. জেলা থেকে শুরু করে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন আদালত গড়ে তোলা হয়।

৩. নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ব্যবস্থা করা হয়।

৪. বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আইন ও নিয়মকে একত্র করে বিধিবদ্ধ করা হয়।

ভারতীয়দের উপর প্রভাব:

এই সংস্কারের ফলে বিচারব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও সুসংগঠিত হয়। কিন্তু সাধারণ ভারতীয়দের জন্য বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়।

১. উচ্চ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে ইউরোপীয়দের প্রাধান্য ছিল। ফলে ভারতীয়রা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে খুব বেশি সুযোগ পেতেন না।

২. আদালতের নিয়মকানুন সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় কঠিন ছিল।

৩. মামলা চালাতে অনেক টাকা খরচ হতো এবং বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লাগত।

৪. নতুন বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচিতি কম থাকায় অনেকেই সমস্যায় পড়তেন।

উপসংহার:

হেস্টিংস ও কর্নওয়ালিসের সংস্কারের ফলে ব্রিটিশ ভারতের বিচারব্যবস্থা নতুন রূপ পায়। তবে এই ব্যবস্থায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে উঠত।


৩. ভারতে উপনিবেশিক প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে ওঠে? মাদ্রাজ, বোম্বাই ও বাংলা প্রেসিডেন্সির পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে ভারতে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। ব্যবসার সুবিধার জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যকেন্দ্র ও দুর্গ তৈরি করে। পরে এই বাণিজ্যকেন্দ্রগুলিকে ঘিরেই মাদ্রাজ, বোম্বাই ও বাংলা— এই তিনটি প্রেসিডেন্সি গড়ে ওঠে।

প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থার উৎপত্তি:

কোম্পানি প্রথমদিকে সুরাট ও মসলিপত্তনমের মতো জায়গায় বাণিজ্যকেন্দ্র তৈরি করেছিল। ১৬৩৯ সালে মাদ্রাজে সেন্ট জর্জ দুর্গ প্রতিষ্ঠার পর সেখানে কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বাড়তে থাকে। পরে বোম্বাই ও কলকাতাও কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠে। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরেই ধীরে ধীরে তিনটি প্রেসিডেন্সি গড়ে ওঠে।

তিনটি প্রেসিডেন্সির পরিচয়:

১. মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি:

মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রধান কেন্দ্র ছিল সেন্ট জর্জ দুর্গ। দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই প্রেসিডেন্সির অধীনে ছিল। পরবর্তী সময়ে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির প্রশাসনিক সদর দপ্তর হিসেবে মাদ্রাজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২. বোম্বাই প্রেসিডেন্সি:

প্রথমদিকে সুরাট ছিল পশ্চিম ভারতে কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। পরে বোম্বাইয়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে এবং সেটি প্রেসিডেন্সির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল এই প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩. বাংলা প্রেসিডেন্সি:

কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ম ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান কেন্দ্র। পলাশির যুদ্ধের পর বাংলায় কোম্পানির ক্ষমতা বাড়তে থাকে। পরে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা প্রেসিডেন্সির অধীনে আরও অনেক অঞ্চল আসে।

প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য:

১. প্রতিটি প্রেসিডেন্সির একজন করে গভর্নর থাকতেন।

২. গভর্নরকে সাহায্য করার জন্য একটি করে কাউন্সিল থাকত।

৩. প্রতিটি প্রেসিডেন্সি নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো।

৪. প্রেসিডেন্সিগুলি লন্ডনে অবস্থিত কোম্পানির পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

৫. ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের পর বাংলার গভর্নর গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত হন। এর ফলে মাদ্রাজ ও বোম্বাইয়ের উপর বাংলার কর্তৃত্ব বাড়ে।

উপসংহার:

প্রথমে বাণিজ্যের সুবিধার জন্য গড়ে ওঠা এই তিনটি কেন্দ্র পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের শাসন পরিচালনা করত।


৪. ভারতে ইংরেজি শিক্ষা বিস্তারের পটভূমি ও বিভিন্ন কমিটি বা প্রতিবেদনের ভূমিকা আলোচনা করো। মেকলে মিনিট ও উডের ডেসপ্যাচের গুরুত্ব কী?

ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে ভারতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় কোম্পানি খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি। কিন্তু পরে প্রশাসনিক কাজের সুবিধা এবং পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন করা হয়। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মেকলে মিনিট ও উডের ডেসপ্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা বিস্তারের প্রাথমিক পটভূমি:

ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৮১ সালে কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায় শিক্ষিত কর্মী তৈরি করা। পরে ১৭৯১ সালে বেনারসে সংস্কৃত শিক্ষার জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই সময়ে প্রাচ্য শিক্ষার পাশাপাশি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

১. জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন:

১৮২৩ সালে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জন্য জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রাচ্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একদল প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার পক্ষে ছিলেন, অন্যদিকে আরেক দল ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের পক্ষে মত দেন।

২. মেকলে মিনিট (১৮৩৫):

১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষা দেওয়ার পক্ষে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি মনে করতেন, ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ভারতীয়দের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকার ইংরেজি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

৩. উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪):

১৮৫৪ সালে স্যার চার্লস উডের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত। এতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে ইংরেজি ও দেশীয় ভাষার ব্যবহারের কথা বলা হয়।

এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

গুরুত্ব:

মেকলে মিনিটের ফলে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার সরকারি নীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে, উডের ডেসপ্যাচ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা দেয়। তবে এই শিক্ষানীতিতে প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার অনেক দিক যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

উপসংহার:

মেকলে মিনিট ও উডের ডেসপ্যাচ ভারতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে ইংরেজি শিক্ষা ও পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটে।


৫. কোম্পানির ভূমি রাজস্ব নীতি ও জরিপ কার্যক্রমের বিবর্তন আলোচনা করো। ইজারাদারি বন্দোবস্ত কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ভূমি রাজস্ব আদায়ের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। জমি থেকে কত রাজস্ব আদায় করা যাবে, তা জানার জন্য কোম্পানি জমি জরিপের কাজ শুরু করে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের জন্য বিভিন্ন বন্দোবস্ত চালু করা হয়।

জমি জরিপের সূচনা:

পলাশির যুদ্ধের পর কোম্পানির প্রভাব বাংলায় বাড়তে থাকে। ১৭৬০ সালে কোম্পানি ২৪ পরগনার জমিদারি লাভ করে। জমির পরিমাণ ও রাজস্ব নির্ধারণের জন্য জরিপের প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে জেমস রেনেল বাংলার নদীপথ ও বিভিন্ন অঞ্চলের জরিপ করেন। ১৭৬৭ সালে তাঁকে সার্ভেয়র জেনারেল নিযুক্ত করা হয়। তাঁর তৈরি মানচিত্রগুলি কোম্পানির প্রশাসন ও রাজস্ব আদায়ের কাজে সাহায্য করেছিল।

ইজারাদারি বন্দোবস্ত (১৭৭২):

১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস নতুন রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থায় নিলামের মাধ্যমে যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন, তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমির রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হতো। প্রথমদিকে এই বন্দোবস্ত পাঁচ বছরের জন্য করা হয়েছিল। তাই একে পাঁচসালা বন্দোবস্তও বলা হয়।

ইজারাদারি বন্দোবস্ত ব্যর্থ হওয়ার কারণ:

১. বহিরাগত ইজারাদার: অনেক ইজারাদার গ্রামের বাইরের লোক ছিলেন। তাই গ্রামের জমির উৎপাদন ও কৃষকদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের যথেষ্ট ধারণা ছিল না।

২. অতিরিক্ত রাজস্বের প্রতিশ্রুতি: নিলামে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক ইজারাদার বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন।

৩. রাজস্ব আদায়ে সমস্যা: কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সব সময় সম্ভব হতো না। ফলে অনেক ইজারাদার কোম্পানিকে নির্ধারিত রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হতেন।

৪. কৃষকদের উপর চাপ: রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতো। এতে গ্রামীণ জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়।

পরবর্তী ব্যবস্থা:

ইজারাদারি বন্দোবস্তের সমস্যা দূর করার জন্য পরে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করা হয়। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন। এর মাধ্যমে জমিদারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।

উপসংহার:

কোম্পানির ভূমি রাজস্ব নীতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নিয়মিত রাজস্ব আদায়। কিন্তু ইজারাদারি বন্দোবস্তে অতিরিক্ত রাজস্বের চাপ ও বাস্তব সমস্যার কারণে এই ব্যবস্থা সফল হয়নি।


৬. ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনী বা সিপাহি বাহিনী কীভাবে গড়ে ওঠে? সিপাহি নিয়োগে কী কী পরিবর্তন আসে এবং ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ‘সামরিক জাতি’ তত্ত্ব কেন প্রয়োগ করা হয়?

ভারতে নিজেদের শাসন বিস্তার ও রক্ষা করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। এই সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সৈন্যদের সংখ্যা ছিল বেশি। তাঁদের সিপাহি বলা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিপাহি নিয়োগের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসে।

সিপাহি বাহিনীর গঠন:

প্রথমদিকে কোম্পানি স্থানীয় ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। বাংলার সেনাবাহিনীতে উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ ও রাজপুত কৃষকদের নিয়োগ করা হতো। তাঁরা নিয়মিত বেতন পেতেন এবং সেনাবাহিনীতে তাঁদের বিশেষ প্রাধান্য ছিল।

সিপাহি নিয়োগে পরিবর্তন:

১৮২০-এর দশক থেকে কোম্পানি মারাঠা, মহীশূরের পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং নেপালি গুর্খাদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করতে শুরু করে। ফলে সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ ও সামরিক জাতি তত্ত্ব:

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা সেনাবাহিনীর নিয়োগনীতি পরিবর্তন করে। তারা মনে করেছিল, সেনাবাহিনীর কিছু অংশের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঠিক নয়। এরপর ব্রিটিশ শাসকেরা কিছু গোষ্ঠীকে স্বভাবতই যুদ্ধদক্ষ ও অনুগত বলে চিহ্নিত করে। এই ধারণাই সামরিক জাতি তত্ত্ব নামে পরিচিত।

এই তত্ত্ব অনুযায়ী পাঞ্জাবের শিখ, নেপালের গুর্খা, রাজপুত ও আরও কয়েকটি গোষ্ঠীর মানুষকে সেনাবাহিনীতে বেশি নিয়োগ করা হয়। ব্রিটিশরা মনে করত, এই গোষ্ঠীগুলি সামরিক কাজের জন্য বেশি উপযুক্ত।

সামরিক জাতি তত্ত্বের প্রভাব:

এই তত্ত্বের ফলে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী বেশি সুযোগ পায়। অন্যদিকে, অনেক গোষ্ঠীর মানুষের নিয়োগের সুযোগ কমে যায়। এই নীতি ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন বাড়াতেও সাহায্য করে।

উপসংহার:

সিপাহি বাহিনী ছিল ব্রিটিশ শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর সামরিক জাতি তত্ত্বের মাধ্যমে ব্রিটিশরা সেনাবাহিনীর নিয়োগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনে।


৭. রাজা রামমোহন রায় ও অন্যদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কেন ভারতীয় প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা ঔপনিবেশিক শিক্ষানীতিতে উপেক্ষিত হয়েছিল? মেকলে-পরবর্তী শিক্ষানীতির রূপরেখা দাও।

ব্রিটিশ শাসনের প্রথম দিকে ভারতীয় প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি কিছু ব্রিটিশ পণ্ডিতের আগ্রহ ছিল। কিন্তু উনিশ শতকে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের দাবি বাড়তে থাকে। এর ফলে শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদীদের মতবিরোধ:

প্রাচ্যবাদীরা সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষার মাধ্যমে ভারতীয় প্রাচীন জ্ঞানচর্চার প্রসার চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, পাশ্চাত্যবাদীরা ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান শেখানোর পক্ষে ছিলেন। এই দুই দলের মধ্যে শিক্ষার মাধ্যম ও সরকারি অর্থ ব্যয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

রাজা রামমোহন রায়ের মতামত:

১৮২৩ সালে রাজা রামমোহন রায় গভর্নর জেনারেল লর্ড আমহার্স্টকে একটি চিঠি লেখেন। তিনি মনে করতেন, শুধু প্রাচীন শাস্ত্রচর্চার জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় না করে গণিত, বিজ্ঞান, দর্শন ও অন্যান্য আধুনিক বিষয়ের শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। তাই তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের পক্ষে মত দেন।

মেকলে মিনিট (১৮৩৫):

১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারের প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সরকার ইংরেজি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর ফলে সংস্কৃত ও ফারসি শিক্ষার তুলনায় ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বাড়তে থাকে।

মেকলে-পরবর্তী শিক্ষানীতি:

১. ইংরেজি শিক্ষার প্রসার: সরকারি শিক্ষানীতিতে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব বাড়ে। পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান শেখানোর উপর জোর দেওয়া হয়।

২. উডের ডেসপ্যাচ (১৮৫৪): প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ইংরেজির পাশাপাশি দেশীয় ভাষার ব্যবহারের কথাও বলা হয়।

৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রভাব:

ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের ফলে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির গুরুত্ব অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। তবে দেশীয় ভাষা ও প্রাচীন শিক্ষার চর্চা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন স্থানে এগুলির চর্চা চলতে থাকে।

উপসংহার:

মেকলে মিনিটের মাধ্যমে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার সরকারি নীতিতে গুরুত্ব পায়। পরে উডের ডেসপ্যাচ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করার পরিকল্পনা দেয়। এর ফলে ভারতে আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটলেও প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায়।


৮. ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী কীভাবে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছিল? ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা আলোচনা করো।

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে নিজেদের শাসন শক্তিশালী করার জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী— এই তিনটি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করত। প্রত্যেকের আলাদা কাজ থাকলেও তারা একে অপরকে সাহায্য করত।

১. প্রশাসনের ভূমিকা:

প্রশাসনের প্রধান কাজ ছিল শাসন পরিচালনা, রাজস্ব আদায় এবং বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। গভর্নর জেনারেল থেকে শুরু করে জেলা কালেক্টর পর্যন্ত বিভিন্ন পদে কর্মচারীরা কাজ করতেন। তাঁদের মাধ্যমে কোম্পানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের শাসন পরিচালনা করত।

২. সেনাবাহিনীর ভূমিকা:

কোম্পানির সেনাবাহিনী সাম্রাজ্য বিস্তার, বাইরের আক্রমণ প্রতিরোধ এবং বিদ্রোহ দমনের কাজে ব্যবহার করা হতো। ভারতীয় সিপাহিদের নিয়ে গঠিত এই বাহিনী ব্রিটিশ শাসনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. পুলিশের ভূমিকা:

পুলিশের প্রধান কাজ ছিল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধ দমন করা। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস থানা ও দারোগা ব্যবস্থা চালু করেন। প্রতিটি থানার দায়িত্বে একজন দারোগা থাকতেন। তাঁর কাজের উপর নজর রাখতেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। পুলিশ ডাকাতি, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনের পাশাপাশি কোম্পানির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেও সাহায্য করত।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা:

ব্রিটিশরা ভারতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও পুলিশ ব্যবস্থার একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের শাসন বজায় রাখা। পুলিশ অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনের নির্দেশ কার্যকর করার কাজ করত। তবে অনেক সময় পুলিশকে সাধারণ মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ব্যবহার করা হতো।

তিনটি ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক:

প্রশাসন সরকারি নীতি ও নির্দেশ তৈরি করত। পুলিশ সেই নির্দেশ কার্যকর করতে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করত। অন্যদিকে, বড় বিদ্রোহ বা সামরিক সংঘর্ষের সময় সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হতো। এভাবে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী একে অপরের সহযোগিতায় ব্রিটিশ শাসনকে শক্তিশালী করেছিল।

উপসংহার:

ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই তিনটি ব্যবস্থার সাহায্যে কোম্পানি রাজস্ব আদায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিজেদের শাসন বজায় রাখতে সক্ষম হয়।


বিশেষ নোট: পরীক্ষার আগে মনে রাখবে

  • মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি: সেন্ট জর্জ দুর্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
  • বোম্বাই প্রেসিডেন্সি: প্রথমে সুরাট গুরুত্বপূর্ণ ছিল, পরে বোম্বাই প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
  • বাংলা প্রেসিডেন্সি: ফোর্ট উইলিয়ম ছিল প্রধান কেন্দ্র।
  • রেগুলেটিং অ্যাক্ট: ১৭৭৩ সালে পাস হয়। ওয়ারেন হেস্টিংস হন বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল।
  • পিটের ভারত শাসন আইন: ১৭৮৪ সালে পাস হয়। বোর্ড অফ কন্ট্রোল গঠিত হয়।
  • ওয়ারেন হেস্টিংস: ১৭৭২ সালে রাজস্ব ও বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন এবং কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
  • কর্নওয়ালিস কোড: ১৭৯৩ সালে চালু হয়। বিচার ও রাজস্ব আদায়ের কাজ আলাদা করা হয়।
  • মেকলে মিনিট: ১৮৩৫ সালে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
  • উডের ডেসপ্যাচ: ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। একে ভারতীয় শিক্ষার ম্যাগনা কার্টা বলা হয়।
  • বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮৫৭ সালে কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • সামরিক জাতি তত্ত্ব: ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধারণা ব্যবহার করে।

Leave a Comment