Chapter 8: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ (Communalism to Partition)

এই অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য ৩০টি MCQ, ১৭টি SAQ এবং ৭টি Broad Questions-এর সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিষয়গুলি ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।
অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস – অষ্টম অধ্যায়: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ (গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর)
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায় ‘সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে নিচে ৩০টি বাছাই করা বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ), সঠিক উত্তর এবং তার সহজ-সরল ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
১. পাকিস্তান প্রস্তাব (Lahore Resolution) কবে উত্থাপিত হয়েছিল? ক) ১৯৩০ খ) ১৯৩৭ গ) ১৯৪০ ঘ) ১৯৪৬
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লিগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন বসে। সেখানেই বাংলার নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্রের প্রস্তাব পেশ করেন। ইতিহাসে এটিই ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ বা ‘লাহোর প্রস্তাব’ নামে বিখ্যাত।
২. ঐতিহাসিক ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory)-এর প্রবক্তা কে ছিলেন? ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান খ) মহম্মদ আলি জিন্নাহ গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ঘ) আল্লামা ইকবাল
সঠিক উত্তর: খ) মহম্মদ আলি জিন্নাহ
ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালে মহম্মদ আলি জিন্নাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, হিন্দু ও মুসলমান দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জাতি। তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি আলাদা, তাই তাদের জন্য একটি নয়, বরং দুটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া উচিত। এটাই হলো ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’।
৩. মুসলিম সমাজে ‘আলিগড় আন্দোলন’-এর সূচনা কে করেছিলেন? ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান খ) মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ঘ) খান আবদুল গফফর খান
সঠিক উত্তর: ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা: উনিশ শতকের শেষদিকে মুসলিম সমাজকে ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান এই আন্দোলন শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৮৭৫ সালে বিখ্যাত ‘মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল (MAO) কলেজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নাম পায়।
৪. ‘মুসলিম লিগ’ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? ক) ১৮৮৫ খ) ১৯০৫ গ) ১৯০৬ ঘ) ১৯৪০
সঠিক উত্তর: গ) ১৯০৬
ব্যাখ্যা: ১৯০৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ’ গঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করা এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা।
৫. ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) কবে ভারতে আসে? ক) ১৯৪২ খ) ১৯৪৫ গ) ১৯৪৬ ঘ) ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: ভারতকে কীভাবে স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কী হবে, তা ঠিক করতে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তিন সদস্যের এই ক্যাবিনেট মিশন ভারতে পাঠায়। এদের পরিকল্পনা মেনেই জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
৬. ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ (Direct Action Day) বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস কবে পালিত হয়? ক) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ খ) ১৬ আগস্ট ১৯৪৬ গ) ২৩ মার্চ ১৯৪০ ঘ) ৩ জুন ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: খ) ১৬ আগস্ট ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম লিগ নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র (পাকিস্তান) আদায়ের জন্য ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’-এর ডাক দেয়। এর ফলেই কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (Great Calcutta Killings) শুরু হয়।
৭. ‘ভারত স্বাধীন আইন’ (Indian Independence Act) কবে পাস হয়েছিল? ক) ১৯৪৬ খ) ১৯৪৭ গ) ১৯৪৫ ঘ) ১৯৫০
সঠিক উত্তর: খ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালে এই আইন পাস করে। এই আইনেই চূড়ান্ত হয় যে, ভারত ভেঙে দুটি আলাদা স্বাধীন দেশ তৈরি হবে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীনতা লাভ করবে।
৮. ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ (Radcliffe Line) আসলে কী? ক) ভারত-চীন সীমান্ত খ) ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী রেখা গ) কাশ্মীর সীমান্ত ঘ) ভারত-আফগানিস্তান সীমান্ত
সঠিক উত্তর: খ) ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী রেখা
ব্যাখ্যা: দেশভাগের সময় স্যার সিরিল র্যাডক্লিফকে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর আঁকা এই সীমানা রেখাই ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্রকে আলাদা করেছে, যা ‘র্যাডক্লিফ লাইন’ নামে পরিচিত।
৯. মুসলিম লিগ প্রথম কবে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি জানায়? ক) ১৯০৬ খ) ১৯৩০ গ) ১৯৪০ ঘ) ১৯৪৬
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে প্রথমবার মুসলমানদের জন্য একটি স্বাধীন ও পৃথক রাষ্ট্রের (পাকিস্তান) দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
১০. কোন ঘটনার পর স্যার সৈয়দ আহমদ খান হিন্দু ও মুসলিমকে দুটি আলাদা জাতি বলে উল্লেখ করেন? ক) সিপাহি বিদ্রোহের পর খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্কের পর গ) বঙ্গভঙ্গের পর ঘ) অসহযোগ আন্দোলনের পর
সঠিক উত্তর: খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্কের পর
ব্যাখ্যা: ১৮৬৭ সালে উত্তরপ্রদেশে সরকারি ভাষা হিসেবে উর্দুর বদলে হিন্দিকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ওঠে। এই ‘হিন্দি-উর্দু বিতর্ক’-এর পরই স্যার সৈয়দ আহমদ খান মনে করতে শুরু করেন যে হিন্দু ও মুসলমানরা আর একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না।
১১. বাংলার ‘কৃষক প্রজা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা নেতা কে ছিলেন? ক) এ.কে. ফজলুল হক খ) জিন্নাহ গ) মৌলানা ভাসানী ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর: ক) এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা: বাংলার শোষিত কৃষকদের অধিকার আদায়ের জন্য এ.কে. ফজলুল হক ‘কৃষক প্রজা পার্টি’ গঠন করেন। এই দল হিন্দু ও মুসলিম— উভয় সম্প্রদায়ের গরিব কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়াই করত।
১২. মহম্মদ আলি জিন্নাহ প্রথম কবে ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ প্রচার করেন? ক) ১৯৩০ খ) ১৯৩৭ গ) ১৯৪০ ঘ) ১৯৪৬
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪০
ব্যাখ্যা: ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনেই জিন্নাহ সাহেব তাঁর বিখ্যাত ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ পেশ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল হিন্দু ও মুসলিম সম্পূর্ণ আলাদা দুটি জাতি, তাই এক দেশে তাদের সহাবস্থান সম্ভব নয়।
১৩. দেশভাগের সময় গঠিত ‘সীমান্ত কমিশন’-এর সভাপতি কে ছিলেন? ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন খ) স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ গ) লর্ড ওয়াভেল ঘ) স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
সঠিক উত্তর: খ) স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা: স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ ছিলেন একজন ব্রিটিশ আইনজীবী। ভারতবর্ষের ভৌগোলিক বা সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো বাস্তব ধারণা না থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলা ও পাঞ্জাবকে ভাগ করার কঠিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
১৪. মুসলিম লিগ কত সালে ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাব খারিজ করে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়? ক) ১৯৪২ খ) ১৯৪৫ গ) ১৯৪৬ ঘ) ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: গ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবে আলাদা পাকিস্তানের কথা স্পষ্ট না থাকায়, ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগ তা প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তান ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তারা ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ বা প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করে।
১৫. ঐতিহাসিক ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ কবে ঘোষিত হয়? ক) ১৯৪৬ খ) ৩ জুন ১৯৪৭ গ) ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ ঘ) ১৪ আগস্ট ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: খ) ৩ জুন ১৯৪৭
ব্যাখ্যা: ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ৩ জুন ১৯৪৭ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বাধ্য হয়ে জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয় দলই এই প্রস্তাব মেনে নেয়।
১৬. ভারতের স্বাধীনতার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন? ক) উইনস্টন চার্চিল খ) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি গ) নেভিল চেম্বারলেন ঘ) হ্যারল্ড উইলসন
সঠিক উত্তর: খ) ক্লিমেন্ট অ্যাটলি
ব্যাখ্যা: ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় ব্রিটেনে লেবার পার্টির সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ক্লিমেন্ট অ্যাটলি। তাঁর সরকারই দ্রুত ভারতকে স্বাধীন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১৭. স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের জাতীয় কংগ্রেস সম্পর্কে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? ক) সকলে কংগ্রেসে যোগ দিতে বলেছিলেন খ) কংগ্রেস বর্জন করতে বলেছিলেন গ) কংগ্রেসের সাথে জোট গড়তে বলেছিলেন ঘ) কোনো পরামর্শ দেননি
সঠিক উত্তর: খ) কংগ্রেস বর্জন করতে বলেছিলেন
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান মনে করতেন যে জাতীয় কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষাকারী একটি দল। তাই তিনি মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দিয়ে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
১৮. পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস কবে পালিত হয়? ক) ১৫ আগস্ট খ) ১৪ আগস্ট গ) ২৬ জানুয়ারি ঘ) ২৩ মার্চ
সঠিক উত্তর: খ) ১৪ আগস্ট
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্তান ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯. মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসারে মূল উদ্যোক্তা কে ছিলেন? ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান খ) মহম্মদ আলি জিন্নাহ গ) মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ঘ) ইকবাল
সঠিক উত্তর: ক) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা: স্যার সৈয়দ আহমদ খান বুঝতে পেরেছিলেন যে ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষা ছাড়া মুসলিম সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। তাই তিনি আধুনিকীকরণের উদ্দেশ্যে আলিগড় আন্দোলন শুরু করেন।
২০. কোন মর্মান্তিক ঘটনাটি ভারত ভাগের প্রক্রিয়াকে অনিবার্য করে তুলেছিল? ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলন খ) ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা গ) নৌ-বিদ্রোহ ঘ) সাইমন কমিশন
সঠিক উত্তর: খ) ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
ব্যাখ্যা: ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট মুসলিম লিগের ডাকা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’-এর জেরে কলকাতা, নোয়াখালী এবং পরে পাঞ্জাব ও বিহারে যে বীভৎস দাঙ্গা ও রক্তপাত শুরু হয়, তা দেখে নেতারা বুঝতে পারেন যে দেশভাগ ছাড়া এই সাম্প্রদায়িক হানাহানি থামানো অসম্ভব।
২১. বিখ্যাত ‘পুনা চুক্তি’ (Poona Pact) কবে স্বাক্ষরিত হয়? ক) ১৯১৬ খ) ১৯৩২ গ) ১৯৪০ ঘ) ১৯৪৭
সঠিক উত্তর: খ) ১৯৩২
ব্যাখ্যা: ১৯৩২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি.আর. আম্বেদকরের মধ্যে এই চুক্তি হয়। দলিতদের জন্য আলাদা নির্বাচনের দাবি থেকে সরে এসে, যৌথ নির্বাচনের মধ্যেই তাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় এই চুক্তির মাধ্যমে।
২২. ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন? ক) লর্ড কার্জন খ) লর্ড ওয়াভেল গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন ঘ) লর্ড আরউইন
সঠিক উত্তর: গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা: লর্ড লুইস মাউন্টব্যাটেন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। তাঁর পরিকল্পনাতেই দ্রুততার সঙ্গে ভারত ভাগের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
২৩. অন্তর্বর্তী সরকারে লিয়াকৎ আলি খান কোন পদে ছিলেন? ক) কংগ্রেস নেতা খ) অর্থমন্ত্রী গ) ব্রিটিশ গভর্নর ঘ) ভারতীয় সেনাপতি
সঠিক উত্তর: খ) অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা: লিয়াকৎ আলি খান ছিলেন মুসলিম লিগের অন্যতম শীর্ষ নেতা। ১৯৪৬ সালে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
২৪. ভারতে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিতে ব্রিটিশদের কোন পদক্ষেপটি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল? ক) ইলবার্ট বিল বিতর্ক খ) আদমশুমারি (Census) ও ধর্মীয় শ্রেণিবিভাগ গ) রেলপথ নির্মাণ ঘ) সিপাহি বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: খ) আদমশুমারি (Census) ও ধর্মীয় শ্রেণিবিভাগ
ব্যাখ্যা: ব্রিটিশরা ১৮৭২ সাল থেকে লোকগণনা বা আদমশুমারির সময় ধর্মীয় পরিচয়কে বড় করে দেখাতে শুরু করে। এর ফলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সংখ্যা নিয়ে বেশি সচেতন হয়ে ওঠে এবং একে অপরের প্রতি প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।
২৫. ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন দল বিপুল সাফল্য পেয়েছিল? ক) হিন্দু মহাসভা খ) জাতীয় কংগ্রেস গ) মুসলিম লিগ ঘ) কমিউনিস্ট পার্টি
সঠিক উত্তর: খ) জাতীয় কংগ্রেস
ব্যাখ্যা: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালে দেশের প্রদেশগুলিতে নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে কংগ্রেস অধিকাংশ প্রদেশে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে, অন্যদিকে মুসলিম লিগের ফলাফল বেশ খারাপ হয়।
২৬. স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে কে নিযুক্ত হন? ক) ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ খ) সি. রাজাগোপালাচারী গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন ঘ) জওহরলাল নেহরু
সঠিক উত্তর: গ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর লর্ড মাউন্টব্যাটেনকেই স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল করা হয়। পরে ১৯৪৮ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সি. রাজাগোপালাচারী এই পদে বসেন।
২৭. ১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশনে কতজন সদস্য ছিলেন? ক) ২ জন খ) ৩ জন গ) ৫ জন ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর: খ) ৩ জন
ব্যাখ্যা: ক্যাবিনেট মিশন বা মন্ত্রী মিশন তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল— লর্ড পেথিক-লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ.ভি. আলেকজান্ডার।
২৮. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কবে পাস হয়? ক) ১৮৯২ খ) ১৯০৯ গ) ১৯১৯ ঘ) ১৯৩৫
সঠিক উত্তর: খ) ১৯০৯
ব্যাখ্যা: ১৯০৯ সালে পাস হওয়া মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনেই প্রথমবারের জন্য ভারতবর্ষে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের (Separate Electorate) অধিকার দেওয়া হয়।
২৯. ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত শক্ত করেছিল কোন আইন? ক) বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) খ) মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯) গ) রাওলাট আইন ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর: খ) মর্লে-মিন্টো সংস্কার (১৯০৯)
ব্যাখ্যা: মর্লে-মিন্টো আইনের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। ব্রিটিশদের এই ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতিই পরবর্তীতে হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে রাজনৈতিক বিভেদের প্রাচীর তুলে দেয়।
৩০. কোন বিতর্কের পর হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ধারণায় বড়োসড়ো ফাটল ধরে? ক) বঙ্গভঙ্গ খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্ক গ) ইলবার্ট বিল ঘ) নীল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর: খ) হিন্দি-উর্দু বিতর্ক
ব্যাখ্যা: ১৮৬৭ সালে উত্তরপ্রদেশে ভাষা নিয়ে শুরু হওয়া ‘হিন্দি-উর্দু বিতর্ক’ হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ইন্ধন জুগিয়েছিল।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি: সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ
ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখার সুবিধার জন্য এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাল ও ঘটনাগুলো নিচে পরপর সাজিয়ে দেওয়া হলো:
- আলিগড় কলেজের প্রতিষ্ঠা
১৮৭৫
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের উদ্যোগে মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ স্থাপিত হয়। - মুসলিম লিগের জন্ম
১৯০৬
ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা মুসলমানদের জন্য আলাদা রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তোলে। - মর্লে-মিন্টো সংস্কার
১৯০৯
এই আইনের মাধ্যমে ভারতে প্রথমবার ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়। - লাহোর বা পাকিস্তান প্রস্তাব
১৯৪০
মুসলিম লিগ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলমানদের জন্য আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র ‘পাকিস্তান’-এর দাবি জানায়। - প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস
১৬ আগস্ট, ১৯৪৬
মুসলিম লিগের ডাকা এই দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, যা দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে। - দেশভাগ ও স্বাধীনতা
আগস্ট, ১৯৪৭
দীর্ঘ সংগ্রামের পর ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে।
আপনার শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটের জন্য অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের অষ্টম অধ্যায় (সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশভাগ)-এর ১৭টি সংক্ষিপ্ত এবং ৭টি রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সম্পূর্ণ নতুনভাবে, সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় ভাষায় সাজিয়ে দেওয়া হলো। এই ফরম্যাটটি আপনার সাইটের এসইও (SEO) বাড়াতে এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণ সাহায্য করবে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ) – মান ২/৩
১. ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের মূল কারণ কী ছিল?
হিন্দু-মুসলিম বিভেদের পিছনে প্রধানত ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতি দায়ী ছিল। ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কারের মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা নির্বাচন এবং আদমশুমারিতে ধর্মকে বড় করে দেখানো এই বিভেদকে উসকে দেয়। এছাড়া, হিন্দি-উর্দু বিতর্ক, স্বদেশি আন্দোলনে হিন্দু ধর্মের প্রতীকের ব্যবহার এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মতো নেতাদের কংগ্রেস বিরোধিতা এই সাম্প্রদায়িক ফাটলকে আরও চওড়া করেছিল।
২. স্যার সৈয়দ আহমদ খান ও তাঁর আলিগড় আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
১৮৭৫ সালে স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলিগড় মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল (MAO) কলেজ প্রতিষ্ঠা করে এই আন্দোলন শুরু করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে ইংরেজি ও পাশ্চাত্য আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
- ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
- মুসলমানদের কংগ্রেসের রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।
৩. ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কীভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ইন্ধন জুগিয়েছিল?
লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করার পর হিন্দু সমাজ এর তীব্র প্রতিবাদ করে স্বদেশি আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু পূর্ববঙ্গের অনেক মুসলিম নেতা ভেবেছিলেন, নতুন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে তাঁরা বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। ব্রিটিশরাও মুসলমানদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়। এর ফলে হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হয়, যা ১৯০৬ সালে মুসলিম লিগ তৈরির পথ প্রশস্ত করে।
৪. মুসলিম লিগ কবে, কেন প্রতিষ্ঠিত হয়? এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
১৯০৬ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর উদ্যোগে ‘মুসলিম লিগ’ গঠিত হয়। বঙ্গভঙ্গের পর যখন হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, তখন মুসলিম নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য একটি আলাদা সর্বভারতীয় দলের অভাব বোধ করেন। এই দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি অনুগত থেকে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায় করা।
৫. ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ বা ‘লাহোর প্রস্তাব’ (১৯৪০) কী? এটি কে পেশ করেন?
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে বাংলার নেতা এ.কে. ফজলুল হক একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন। এতে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বদিকের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। ইতিহাসে এটিই ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ নামে পরিচিত। এই অধিবেশনেই জিন্নাহ তাঁর ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ তুলে ধরেন।
৬. ঐতিহাসিক ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’ (Two-Nation Theory) বলতে কী বোঝায়?
এই তত্ত্বের মূল প্রবক্তা ছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নাহ। ১৯৪০ সালে তিনি দাবি করেন যে, ভারতের হিন্দু এবং মুসলমান কেবল দুটি আলাদা ধর্ম নয়, এরা দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতি। এদের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি এবং ইতিহাস এতটাই আলাদা যে, এদের পক্ষে এক দেশে থাকা সম্ভব নয়। এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই আলাদা পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবি ওঠে।
৭. খিলাফৎ আন্দোলন কী? এর সাথে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের সম্পর্ক কী?
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশরা তুরস্কের সুলতান বা খলিফার (যিনি বিশ্ব মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা) ক্ষমতা কেড়ে নিলে ভারতীয় মুসলিমরা ক্ষুব্ধ হয়ে খিলাফৎ আন্দোলন শুরু করে। মহাত্মা গান্ধী এই সুযোগে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ডাক দিয়ে খিলাফৎ আন্দোলনকে সমর্থন করেন। এর ফলে ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে দুই সম্প্রদায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিল।
৮. ‘হিন্দি-উর্দু বিতর্ক’ কী? এর পরিণতি কী হয়েছিল?
১৮৬৭ সালে উত্তরপ্রদেশে হিন্দুরা দাবি তোলে যে, সরকারি কাজে ফারসি লিপির উর্দুর বদলে দেবনাগরী লিপির হিন্দিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। মুসলমানরা এর তীব্র বিরোধিতা করে। এই বিতর্কের পরই স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রথমবার বলেন, “হিন্দু ও মুসলমান আর একসাথে চলতে পারবে না।” এই ঘটনা ভাষাগত বিভেদকে সাম্প্রদায়িকতার রূপ দিয়েছিল।
৯. ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে (Direct Action Day)-এর ফল কী হয়েছিল?
ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবে আলাদা পাকিস্তানের কথা স্পষ্ট না থাকায় ক্ষুব্ধ মুসলিম লিগ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট দেশজুড়ে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ বা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে পালনের ডাক দেয়। এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। ওই দিন কলকাতায় মারাত্মক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয় (Great Calcutta Killings), যা পরে নোয়াখালী, বিহার ও পাঞ্জাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই দাঙ্গাই দেশভাগকে অনিবার্য করে তোলে।
১০. ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ (Mountbatten Plan) কী?
ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারত ভাগের একটি চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়:
- ভারতকে ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন দেশ হবে।
- বাংলা ও পাঞ্জাবকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা হবে।
- দেশীয় রাজ্যগুলো ইচ্ছেমতো ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারবে। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয়েই এই প্রস্তাব মেনে নেয়।
১১. র্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line) কী? এতে কী কী সমস্যা হয়েছিল? দেশভাগের সময় বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমানা টানার জন্য ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর টানা এই সীমানাই ‘র্যাডক্লিফ লাইন’। সমস্যা ছিল, তিনি জীবনেও ভারতে আসেননি। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ম্যাপ দেখে তিনি এমনভাবে লাইন টানেন যে, কারও বাড়ির অর্ধেক ভারতে আর অর্ধেক পাকিস্তানে পড়ে যায়। এর ফলে লাখো মানুষ রাতারাতি নিজেদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে পড়েন।
১২. ক্যাবিনেট মিশন (Cabinet Mission) ভারতে কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা তৈরি করতে ৩ সদস্যের একটি মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়। তাঁরা প্রস্তাব দেন:
- ভারতকে ভাগ না করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র রাখতে হবে।
- কেন্দ্র শুধু দেশরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সামলাবে, বাকি ক্ষমতা প্রদেশগুলোর হাতে থাকবে।
- প্রদেশগুলোকে ক, খ এবং গ— এই তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। মুসলিম লিগ আলাদা পাকিস্তান না পেয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
১৩. মহম্মদ আলি জিন্নাহর নেতৃত্ব কীভাবে পাকিস্তান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করেছিল?
প্রথম জীবনে জিন্নাহ ছিলেন ‘হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত’। কিন্তু পরে তিনি মুসলিম লিগের অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে তাঁর দ্বি-জাতি তত্ত্ব, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে ‘পাকিস্তান’-এর দাবিতে ব্যাপক প্রচার এবং ক্যাবিনেট মিশন খারিজ করে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’-এর ডাক দেওয়া— তাঁর এই অনড় মনোভাবই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
১৪. হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদী আন্দোলন কীভাবে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কে ফাটল ধরিয়েছিল?
উনিশ শতকের শেষের দিকে আর্য সমাজ, হিন্দু মহাসভার মতো সংগঠনগুলো প্রাচীন হিন্দু গৌরব প্রচার করতে শুরু করে। তারা ভারতের ইতিহাসকে কেবল ‘হিন্দু সভ্যতার ইতিহাস’ হিসেবে তুলে ধরে এবং মুসলিম শাসনকে ‘বিদেশি অত্যাচার’ বলে দাগিয়ে দেয়। এছাড়া ‘শুদ্ধি’ আন্দোলনের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফেরানোর চেষ্টা মুসলিম সমাজকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত করেছিল।
১৫. ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের রূপ কেমন ছিল?
দেশভাগের কারণে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছিল। সীমানা বিভাজনের ফলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাতারাতি ঘরবাড়ি ছেড়ে শরণার্থী হতে বাধ্য হয়। ট্রেনে, গরুর গাড়িতে বা হেঁটে সীমান্ত পেরনোর সময় ভয়ানক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গণহত্যায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। হাজার হাজার নারী ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হন।
১৬. প্রথমদিকে দুর্বল থাকা মুসলিম লিগ কীভাবে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠল?
১৯০৬ সালে তৈরি হলেও ১৯৩৭ সালের নির্বাচন পর্যন্ত মুসলিম লিগ সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর লিগ প্রচার করতে শুরু করে যে, কংগ্রেস কেবল হিন্দুদের দল। এরপর ১৯৪০ সালে আলাদা পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি দিলে মুসলমানদের মধ্যে লিগের জনপ্রিয়তা রাতারাতি বেড়ে যায়। জিন্নাহর ক্যারিশমায় শিক্ষিত মুসলিম সমাজ লিগের ছাতার তলায় একজোট হয়।
১৭. মহাত্মা গান্ধী কেন খিলাফৎ আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন? এর সুফল কী হয়েছিল?
গান্ধীজি বুঝতে পেরেছিলেন, হিন্দু ও মুসলিম ঐক্যবদ্ধ না হলে ব্রিটিশদের হারানো অসম্ভব। তাই তিনি মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগের জায়গা ‘খিলাফৎ আন্দোলন’-কে সমর্থন করেন। এর বড় সুফল ছিল ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলন, যেখানে ভারতের হিন্দু ও মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (Broad Questions) – মান ৫
১. ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের মূল কারণগুলো কী ছিল? এটি কতটা ঔপনিবেশিক নীতির ফল ছিল?
সাম্প্রদায়িকতার উত্থানের পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী ছিল:
- ব্রিটিশদের ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ নীতি: ১৮৭২ সাল থেকে আদমশুমারিতে ধর্মকে বড় করে দেখানো এবং ১৯০৯ সালে মুসলমানদের জন্য আলাদা নির্বাচনের অধিকার দিয়ে ব্রিটিশরা হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে রাজনৈতিক প্রাচীর তুলে দেয়।
- হিন্দি-উর্দু বিতর্ক (১৮৬৭): ভাষার লড়াই যখন ধর্মের লড়াইয়ে পরিণত হয়, তখন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ পোঁতা হয়।
- হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদ: আর্য সমাজ বা হিন্দু মহাসভার মতো সংগঠনগুলো ভারতীয় ইতিহাসকে শুধু হিন্দুদের ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরলে মুসলিমরা কোণঠাসা বোধ করে।
- স্বদেশি আন্দোলনের চরিত্র: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে হিন্দু দেবদেবীর নাম ও বন্দেমাতরম স্লোগান অনেক সাধারণ মুসলিমকে আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
মূল্যায়ন: ব্রিটিশদের উসকানিমূলক নীতি অবশ্যই প্রধান কারণ ছিল, কিন্তু ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ রক্ষণশীলতা, রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভ এবং নেতাদের একপেশে মনোভাবও এই বিভেদকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল।
২. আলিগড় আন্দোলন ও স্যার সৈয়দ আহমদ খানের ভূমিকা আলোচনা করো। তাঁর চিন্তা কীভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত গড়েছিল?
আলিগড় আন্দোলন: মুসলিম সমাজকে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক করতে ১৮৭৫ সালে স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলিগড়ে MAO কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করে ব্রিটিশদের নজরে ভালো করা এবং সরকারি চাকরি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে হিন্দুদের সমকক্ষ করে তোলা।
সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত রচনা: প্রথম জীবনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে বিশ্বাসী হলেও হিন্দি-উর্দু বিতর্কের পর স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মত বদলে যায়। তিনি মনে করতেন:
- জাতীয় কংগ্রেস কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের দল।
- ব্রিটিশরা চলে গেলে হিন্দুরা মুসলমানদের ওপর ছড়ি ঘোরাবে। তাই তিনি মুসলমানদের কংগ্রেসে যোগ না দিয়ে ব্রিটিশদের অনুগত থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর এই চিন্তাধারাই পরবর্তীকালে মুসলিম লিগের জন্ম এবং জিন্নাহর ‘দ্বি-জাতি তত্ত্ব’-এর মানসিক ভিত তৈরি করেছিল।
৩. খিলাফৎ ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে কীভাবে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে উঠেছিল? কেন তা স্থায়ী হলো না?
ঐক্যের সূচনা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তুরস্কের খলিফার সম্মান রক্ষার্থে মুসলিমরা খিলাফৎ আন্দোলন শুরু করে। গান্ধীজি একে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখে কংগ্রেসকে এর সাথে যুক্ত করেন। ফলস্বরূপ ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে হিন্দু ও মুসলিম একজোট হয়ে অভূতপূর্ব ব্রিটিশ-বিরোধী লড়াই শুরু করে।
স্থায়ী না হওয়ার কারণ:
- ১৯২২ সালে চৌরিচৌরার হিংসার পর গান্ধীজি হঠাৎ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে মুসলিম নেতারা হতাশ হন।
- ১৯২৪ সালে খোদ তুরস্কেই খলিফা পদ বাতিল হয়ে গেলে খিলাফৎ আন্দোলন তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়।
- এরপর হিন্দু মহাসভার ‘শুদ্ধি’ আন্দোলন এবং মুসলিমদের পাল্টা আন্দোলনের জেরে ১৯২০-এর দশকে দেশে একের পর এক দাঙ্গা শুরু হয়, যা এই ঐতিহাসিক ঐক্যকে চিরতরে ভেঙে দেয়।
৪. ১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে কীভাবে ভারত ভাগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল?
দেশভাগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই সাত বছরের ঘটনাক্রম ইতিহাসের এক নাটকীয় অধ্যায়:
- পাকিস্তানের দাবি
১৯৪০ (লাহোর প্রস্তাব)
মুসলিম লিগের লাহোর অধিবেশনে প্রথমবার মুসলমানদের জন্য আলাদা ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক দাবি গৃহীত হয় এবং জিন্নাহ তাঁর দ্বি-জাতি তত্ত্ব পেশ করেন। - ভারত ছাড়ো ও আজাদ হিন্দ
১৯৪২ – ১৯৪৫
গান্ধীজির ডাকে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন এবং নেতাজির আইএনএ (INA)-এর লড়াই ব্রিটিশদের ভিত নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক সমাধান অধরাই থেকে যায়। - প্রত্যক্ষ সংগ্রাম
১৯৪৬ (ক্যাবিনেট মিশন ও দাঙ্গা)
ক্যাবিনেট মিশনের প্রস্তাবে পাকিস্তান না থাকায় মুসলিম লিগ ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ পালন করে। কলকাতায় শুরু হয় ভয়াবহ হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। - মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
৩ জুন, ১৯৪৭
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতকে ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র তৈরির চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করেন। - স্বাধীনতা ও দেশভাগ
১৪-১৫ আগস্ট, ১৯৪৭
র্যাডক্লিফ লাইনের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারিত হয়। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
৫. মুসলিম লিগ ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক লড়াই কীভাবে ভারত ভাগের পথ প্রশস্ত করেছিল?
কংগ্রেস নিজেকে সারা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিনিধি বলে দাবি করত, অন্যদিকে মুসলিম লিগ দাবি করত যে তারাই ভারতের সমস্ত মুসলমানদের একমাত্র প্রতিনিধি।
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল জয় পায় এবং লিগ মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপর থেকেই লিগ প্রচার করতে শুরু করে যে কংগ্রেস মুসলমানদের শেষ করে দেবে।
- ১৯৪৬ সালে ক্যাবিনেট মিশন ঐক্যবদ্ধ ভারতের প্রস্তাব দিলেও, লিগ আলাদা পাকিস্তানে অনড় থাকে এবং কংগ্রেস ক্যাবিনেট মিশনের গ্রুপিং ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে।
- লিগের ডাকা ১৬ আগস্টের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ এবং তৎপরবর্তী দাঙ্গা কংগ্রেস নেতাদের বাধ্য করে এটা মেনে নিতে যে, জোর করে আর এক দেশে থাকা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অহংকার ও আপসহীন মনোভাবই দেশভাগ ডেকে এনেছিল।
৬. ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মানবিক বিপর্যয় বর্ণনা করো। স্বাধীনতা ও দেশভাগ কেন একইসাথে ঘটেছিল?
মানবিক বিপর্যয়: দেশভাগ কোনো সাধারণ সীমানা টানা ছিল না, এটি ছিল রক্তক্ষয়ী এক ট্র্যাজেডি। র্যাডক্লিফ লাইনের জেরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাতারাতি ভিটেমাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। সীমান্ত পেরনোর সময় ট্রেন ও রাস্তায় চরম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রায় ১০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু খুন হন। হাজার হাজার নারী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন। ভাই তার ভাইকে হারায়, কৃষক হারায় তার জমি।
কেন একসাথে ঘটেছিল: কংগ্রেসের মূল দাবি ছিল ব্রিটিশদের হাত থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা, আর মুসলিম লিগের দাবি ছিল নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান। ব্রিটিশরা চেয়েছিল যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে। তাই ভারতের স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭-এর মাধ্যমে ব্রিটিশরা একই দিনে স্বাধীনতা প্রদান এবং দেশভাগের মতো দুটি চরম সিদ্ধান্ত একসঙ্গে কার্যকর করে।
৭. স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের চরম প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত কেন ভারত ভাগ হলো?
গান্ধীজি, মৌলানা আজাদ বা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বারবার প্রমাণ করেছেন যে হিন্দু-মুসলিম এক না হলে স্বাধীনতা পাওয়া কঠিন। তা সত্ত্বেও ভারত ভাগ হওয়ার পিছনের কারণগুলো হলো:
- ব্রিটিশদের কূটনীতি: মুসলমানদের আলাদা নির্বাচন দিয়ে তারা রাজনৈতিকভাবে দুই সম্প্রদায়কে আলাদা করে দিয়েছিল।
- নেতৃত্বের ব্যর্থতা: জিন্নাহর চরম অনমনীয় মনোভাব এবং কংগ্রেস নেতাদের (বিশেষত নেহরু ও প্যাটেল) দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের তাড়না সমঝোতার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
- পারস্পরিক অবিশ্বাস: হিন্দু ও মুসলিম মৌলবাদীদের প্রচার এবং ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক অবিশ্বাসের বিষবাষ্প ছড়িয়েছিল যে, সাধারণ মানুষও তখন আলাদা দেশেই নিজেদের নিরাপত্তা খুঁজতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত আদর্শের কাছে বাস্তব রাজনীতির নিষ্ঠুর হার হয়েছিল।